ঋণ দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে সঞ্চয়ের নামে টাকা নেওয়ার পর কার্যালয় বন্ধ করে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে নির্ধারিত সময়ে ঋণের টাকা নিতে এসে কার্যালয় বন্ধ দেখতে পান প্রায় ৩০ গ্রাহক। পরে তারা ভাড়া করা বাড়ির মালিকের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান।
ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালী শহরের কালিকাপুর ইউনিয়নের হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়িতে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ‘সমাজকল্যাণ উন্নয়ন সংস্থা’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানার টাঙিয়ে সেখানে অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। ব্যানারে প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ০৪৩৯/১৯৯০ এবং ‘আর্থিক সহযোগিতায় পিকেএসএফ’ লেখা ছিল।
ভুক্তভোগীরা জানান, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) প্রতিষ্ঠানের লোকজন বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এক লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার বিপরীতে ১১ হাজার টাকা করে সঞ্চয় জমা দিতে হবে বলে তাদের জানানো হয়। ঋণের আশায় অনেকেই ওই টাকা জমা দেন। তাদের বলা হয়েছিল, বুধবার দুপুর ৩টার দিকে ঋণের টাকা দেওয়া হবে।
নির্ধারিত সময়ে গ্রাহকেরা কার্যালয়ে এসে দেখেন সেটি তালাবদ্ধ। প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও সেখানে পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি জানতে পেরে বাড়ির মালিকের পরিবারের সদস্যদের কাছে অভিযোগ করেন তারা। এ সময় টাকা দিয়ে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীরা।
এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছিল বুধবার দুপুর ৩টার দিকে ঋণের টাকা দেওয়া হবে। তাই নির্ধারিত সময়ে অফিসে আসি। এসে দেখি অফিস বন্ধ। যাদের কাছে টাকা দিয়েছি, তাদের কাউকেই পাওয়া যাচ্ছে না।’
আরেক গ্রাহক বলেন, ‘আমরা এই অফিসে বসেই টাকা দিয়েছি। সেখানে ল্যাপটপ, বিভিন্ন কাগজপত্র, টেবিল-চেয়ারসহ অফিসের মতো পরিবেশ ছিল। তারা নিজেদের নতুন সংগঠন হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। বাড়ির মালিকের ছেলের সামনেও আমরা টাকা দিয়েছি।’
ভাড়া করা বাড়ির মালিক মাওলানা জাফর খানের ছেলে সোহাগ বলেন, ‘গতকাল ওই লোকজন আমাদের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে আসে। তারা কোনো অগ্রিম টাকা দেয়নি। ভোটার আইডি কার্ডের কপিও দেয়নি। কয়েকটি টেবিল-চেয়ার এনে একটি অফিসের মতো করে সাজিয়েছিল। এর বেশি তাদের বিষয়ে আমরা জানতাম না। আজ দুপুরে শুনি, তারা মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সমস্যায় ফেলেছে।’
এদিকে প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে ‘সমাজকল্যাণ উন্নয়ন সংস্থা’, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ০৪৩৯/১৯৯০ এবং পিকেএসএফের আর্থিক সহযোগিতার যে দাবি করা হয়েছে, তার সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের মধ্যে টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মতামত