বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সানুহার-ধামুড়া-সাতলা সড়কের বেহাল দশা দীর্ঘদিনের। সড়কজুড়ে খানাখন্দ, গর্ত ও কাদার কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করায় উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের হুমকি ও শাসানোর অভিযোগ উঠেছে।
এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং তদারকিতে গাফিলতির অভিযোগও তুলেছেন এলাকাবাসী। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
সড়ক সংস্কারের দাবিতে গত ৯ আগস্ট বামরাইল ইউনিয়নের ঈদগাহ বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় এক ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ রেখে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তারা। এতে শত শত মানুষ অংশ নেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। বৃষ্টি হলে পানি ও কাদায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে।
এ কারণে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী, শিশু, বৃদ্ধ, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীসহ হাজারো মানুষকে দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
এর মধ্যে আন্দোলনকারীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে প্রকৌশলী সুব্রত রায়কে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। তার সঙ্গে কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে অডিওটির সত্যতা ও সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রকৌশলী সুব্রত রায়ও ওই কল রেকর্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে সড়ক সংস্কার নিয়ে প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তিনি বলেন, সড়কের পাশ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করা গেলে সংস্কারের পর রাস্তাটি এক মাসও টেকসই হবে না। পাশাপাশি ঠিকাদার কাজ শুরু করার আগে জনগণের চলাচলের জন্য কিছু করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
প্রকৌশলীর এমন বক্তব্যের পর স্থানীয়দের প্রশ্ন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সড়কের স্থায়িত্ব যদি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়, তাহলে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সময় পানি নিষ্কাশনের বিষয়টি কেন নিশ্চিত করা হয়নি। একই সঙ্গে জনগণের চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা না করে সংস্কারকাজ শুরু হলে দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
এদিকে প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, সানুহার-ধামুড়া-সাতলা সড়কের প্রকল্প গ্রহণ, টেন্ডার প্রক্রিয়া, ব্যয়, নির্মাণকাজের মান ও তদারকিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্ত করা প্রয়োজন।
পাশাপাশি প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
মতামত