দুমকী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে দাতা সদস্য মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ খাইরুল ইসলাম চৌধুরীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
গত ১৬ আগস্ট দুমকী সহকারী সিভিল জজ আদালতে মামলাটি করেন সৈয়দ লিয়াকত হোসেনসহ চারজন। ৩৫ নম্বর জলিশা বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে ‘ভুয়া’ দাতা সদস্য মনোনয়নের অভিযোগ এনে মামলাটি করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আবদুর রহমান ওরফে লাল মিয়া ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে তিনি বিদ্যালয়ের নামে কোনো জমি দলিল করে যাননি। পরে ২০১৩ সালে বিদ্যালয়ের জমিসংকট নিরসনে তাঁর মেয়ের ঘরের নাতি সৈয়দ লিয়াকত হোসেন লিকু মিরাসহ কয়েকজন উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ৭ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে বিদ্যালয়কে দান করেন।
বাদীপক্ষের দাবি, দাতা সদস্য হিসেবে মনোনীত মো. আশিফুর রহমান বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতার প্রপৌত্র হলেও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়কে কোনো জমি দান করা হয়নি।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রকৃত জমিদাতা অথবা তাঁর উত্তরাধিকারীদের মধ্য থেকে একজনকে দাতা সদস্য করার সুযোগ রয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২১ জুলাই সৈয়দ লিয়াকত হোসেনকে দাতা সদস্য করার বিষয়ে সর্বসম্মতি থাকলেও সেই সিদ্ধান্ত অনুসরণ না করে আশিফুর রহমানকে দাতা সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাঃ মিনারা বেগম বলেন, উভয় পক্ষকে ডেকে সবার স্বাক্ষর নিয়ে রেজুলেশন করার পর আশিফুর রহমানকে দাতা সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এ নিয়ে আপত্তি উঠলে তিনি বিষয়টি ইউএনওকে অবহিত করেন। ইউএনও উভয় পক্ষকে ডেকে শুনানি করার কথা বললেও পরে আর কাউকে ডাকা হয়নি বলে জানান তিনি।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, বিদ্যালয়ের মোট ৩৩ শতক জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৭ শতক জমি লিকু মিরাসহ আরও তিনজন দান করেছেন। বাকি ২৬ শতক জমি প্রতিষ্ঠাতার হলেও সেটি বিদ্যালয়ের নামে দান করা হয়নি; প্রতিষ্ঠানটি আগে থেকেই ওই জমি ব্যবহার করে আসছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ খাইরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিষয়টি যেহেতু আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, তাই আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মো. আশিফুর রহমান, রাজা আবদুস সালাম ও রাজা শহিদুল হককে বিবাদী করা হয়েছে।
মতামত