পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নদীভাঙন কবলিত এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা এলাকার মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে নদীভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পক্ষ থেকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীর তীব্র ভাঙনে প্রতিবছর নতুন নতুন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেক আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হওয়ায় সাময়িকভাবে স্বস্তি মিললেও স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছাড়া এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন।
কৃষক আবদুল কুদ্দুস বলেন, নদীভাঙনে আবাদি জমি হারিয়ে কৃষকেরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তিনি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল হোসেন বলেন, ভাঙনের কারণে অনেক পরিবার বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। জিও ব্যাগ ফেলা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হলেও এর পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ জরুরি।
উদ্বোধনকালে মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙনের কারণে কাছিপাড়ার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পক্ষ থেকে আপাতত ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, জিও ব্যাগ ফেলার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙনের তীব্রতা কমানোর পাশাপাশি দ্রুত একটি টেকসই বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। তাদের আশঙ্কা, ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অদূর ভবিষ্যতে আরও বসতভিটা, ফসলি জমি ও স্থাপনা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে কাছিপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নদীভাঙনকবলিত মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি হবে।
মতামত