পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোসা. ইসরাত জাহান যুথি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সুবিদখালী সরকারি রহমান ইসহাক পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে মহাসড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা যুথি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সুবিদখালী সরকারি রহমান ইসহাক পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল হালিম, সহকারী শিক্ষক আবদুল মালেক, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আশ্রাফ আলী হাওলাদার এবং উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুন আর রশিদ মুন্সী।
বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তাঁরা দ্রুত মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফাঁসির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সকালে সুবিদখালী সরকারি রহমান ইসহাক পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী যুথি। এরপর সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিদ্যালয়ে যোগাযোগ করেন। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, ওই দিন যুথি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়নি।
নিখোঁজের দুই দিন পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে বাড়ির পাশের একটি পানের বরজের কাছে স্থানীয়রা তার জুতা দেখতে পান। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে পানের বরজের পাশে যুথির মরদেহ পাওয়া যায়।
খবর পেয়ে মির্জাগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা যুথি হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং দ্রুত বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মতামত