পটুয়াখালীতে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। জেলার প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন, সরকারি সেবার মান বৃদ্ধি এবং খামারিদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সভায় আলোচনা করা হয়।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করা এবং দেশের মানুষের প্রোটিনের চাহিদা পূরণে প্রাণিসম্পদ খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে মাঠপর্যায়ে সরকারি সেবা আরও কার্যকর করতে হবে। জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি দেশের দুধ ও মাংস উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি খামারিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান, আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং প্রাণীর রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় পটুয়াখালী জেলার প্রাণিসম্পদ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, উন্নয়নের সম্ভাবনা, কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং খামারিদের বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় জেলার প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং মাঠপর্যায়ে সেবার কার্যকারিতা বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
মতবিনিময় সভায় মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. খালেদ কনক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোল্যা মেহেদী হাসান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী এবং পটুয়াখালী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া পটুয়াখালী জেলার সব উপজেলার প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
সভায় প্রাণিসম্পদ খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, খামারিদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, মাঠপর্যায়ে সরকারি সেবার মানোন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিও আরও গতিশীল হতে পারে।
মতামত