ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
পটুয়াখালী টুডে

৪ কিলোমিটার সড়কেই দুর্ভোগের চার বছর? রোগী বহনে ভরসা মরদেহের খাট, বর্ষায় হাঁটুসমান কাদা



৪ কিলোমিটার সড়কেই দুর্ভোগের চার বছর?    রোগী বহনে ভরসা মরদেহের খাট, বর্ষায় হাঁটুসমান কাদা
৪ কিলোমিটার সড়কেই দুর্ভোগের চার বছর? রোগী বহনে ভরসা মরদেহের খাট, বর্ষায় হাঁটুসমান কাদা

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের নলুয়াবাগীর ঢালীর বাজার থেকে নুয়াবাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার মাটির সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয় হাঁটুসমান কাদা। এতে যানবাহন তো দূরের কথা, হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছালেও বছরের অন্যান্য সময়ও সড়কটির বড় অংশ থাকে চলাচলের অনুপযোগী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারী। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সড়কটি পাকা না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই তাদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয় অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষদের। সম্প্রতি মাহতাব ফরাজি নামে এক অসুস্থ বৃদ্ধকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় সড়কের কর্দমাক্ত অবস্থার কারণে স্বাভাবিকভাবে নেওয়া সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাকে মরদেহ বহনের খাটে করে হাসপাতালে নিতে হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নলুয়াবাগী গ্রামের বাসিন্দা যুবক রাব্বি বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সড়কটির একই চিত্র দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, “আমাদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যার মধ্যে বসবাস করছি। বর্ষা এলেই রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। অসুস্থ রোগী, স্কুলগামী শিশু থেকে কৃষক—সবাইকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। আমরা এখন আর আশ্বাস নয়, রাস্তাটির কার্যকর সমাধান দেখতে চাই।”

পশ্চিম নলুয়াবাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. শের-ই জাহান রাজিবুল হক বলেন, সড়কটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এই সড়ক দিয়েই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতেও এর প্রভাব পড়ে।

নুয়াবাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মতিয়ার রহমান বলেন, “বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাইকে হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়ে আসতে হয়। অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, স্কুলব্যাগ ও পোশাক কাদায় নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিদিন এভাবে বিদ্যালয়ে আসা তাদের জন্য খুবই কষ্টকর।”

তিনি আরও জানান, কয়েক দিন আগে মাহতাব ফরাজি নামে এক অসুস্থ বৃদ্ধকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে সড়কের ভয়াবহ কাদার কারণে তাকে মরদেহ বহনের খাটে করে হাসপাতালে নিতে হয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও সড়কটির দুরবস্থার কথা স্বীকার করেছেন। গোলখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল কাদের মিয়া বলেন, ঢালীর বাজার হয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নুয়াবাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কটির বিষয়ে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সভায় আলোচনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি।

তিনি বলেন, “কয়েক দিন আগে আমাদের এলাকার প্রতিমন্ত্রীর একটি সভায়ও বিষয়টি তুলে ধরেছি। তিনি রাস্তাটি পাকাকরণের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন।”

এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, গোলখালী ইউনিয়নের নলুয়াবাগী ঢালীর বাজার থেকে নলুয়াবাগী পর্যন্ত সড়কটির অবস্থা খুবই খারাপ। সড়কটি পাকাকরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এ বিষয়ে সুফল পাওয়া যাবে।

স্থানীয়দের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দ্রুত পাকাকরণ করা হলে কয়েক হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াত সহজ হওয়ার সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহনেও তৈরি হবে স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা। তাই আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত সড়কটির স্থায়ী সংস্কার ও পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

পটুয়াখালী টুডে

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


৪ কিলোমিটার সড়কেই দুর্ভোগের চার বছর? রোগী বহনে ভরসা মরদেহের খাট, বর্ষায় হাঁটুসমান কাদা

প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের নলুয়াবাগীর ঢালীর বাজার থেকে নুয়াবাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার মাটির সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয় হাঁটুসমান কাদা। এতে যানবাহন তো দূরের কথা, হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছালেও বছরের অন্যান্য সময়ও সড়কটির বড় অংশ থাকে চলাচলের অনুপযোগী।


স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারী। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সড়কটি পাকা না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই তাদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না।


সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয় অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষদের। সম্প্রতি মাহতাব ফরাজি নামে এক অসুস্থ বৃদ্ধকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় সড়কের কর্দমাক্ত অবস্থার কারণে স্বাভাবিকভাবে নেওয়া সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাকে মরদেহ বহনের খাটে করে হাসপাতালে নিতে হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


নলুয়াবাগী গ্রামের বাসিন্দা যুবক রাব্বি বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সড়কটির একই চিত্র দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।


স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, “আমাদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যার মধ্যে বসবাস করছি। বর্ষা এলেই রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। অসুস্থ রোগী, স্কুলগামী শিশু থেকে কৃষক—সবাইকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। আমরা এখন আর আশ্বাস নয়, রাস্তাটির কার্যকর সমাধান দেখতে চাই।”


পশ্চিম নলুয়াবাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. শের-ই জাহান রাজিবুল হক বলেন, সড়কটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এই সড়ক দিয়েই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতেও এর প্রভাব পড়ে।


নুয়াবাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মতিয়ার রহমান বলেন, “বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাইকে হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়ে আসতে হয়। অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, স্কুলব্যাগ ও পোশাক কাদায় নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিদিন এভাবে বিদ্যালয়ে আসা তাদের জন্য খুবই কষ্টকর।”


তিনি আরও জানান, কয়েক দিন আগে মাহতাব ফরাজি নামে এক অসুস্থ বৃদ্ধকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে সড়কের ভয়াবহ কাদার কারণে তাকে মরদেহ বহনের খাটে করে হাসপাতালে নিতে হয়।


স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও সড়কটির দুরবস্থার কথা স্বীকার করেছেন। গোলখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল কাদের মিয়া বলেন, ঢালীর বাজার হয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নুয়াবাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কটির বিষয়ে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সভায় আলোচনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি।


তিনি বলেন, “কয়েক দিন আগে আমাদের এলাকার প্রতিমন্ত্রীর একটি সভায়ও বিষয়টি তুলে ধরেছি। তিনি রাস্তাটি পাকাকরণের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন।”


এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, গোলখালী ইউনিয়নের নলুয়াবাগী ঢালীর বাজার থেকে নলুয়াবাগী পর্যন্ত সড়কটির অবস্থা খুবই খারাপ। সড়কটি পাকাকরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এ বিষয়ে সুফল পাওয়া যাবে।


স্থানীয়দের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দ্রুত পাকাকরণ করা হলে কয়েক হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াত সহজ হওয়ার সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহনেও তৈরি হবে স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা। তাই আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত সড়কটির স্থায়ী সংস্কার ও পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


পটুয়াখালী টুডে

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান: মোঃ আতিকুল ইসলাম
ভাইস চেয়ারম্যান: মোঃ জাকারিয়া হোসেন
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুর রহিম মেহেদী
বার্তা সম্পাদক: মোঃ মাসুদ খান

কপিরাইট © ২০২৬ পটুয়াখালী টুডে । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৪ কিলোমিটার সড়কেই দুর্ভোগের চার বছর? রোগী বহনে ভরসা মরদেহের খাট, বর্ষায় হাঁটুসমান কাদা
0:00 0:00
1.0x