দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) চীনা, দক্ষিণ কোরীয় ও জাপানি ভাষা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) ভবনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ প্রস্তাব দেন। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর সম্ভাবনা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে সভায় আলোচনা হয়।
সভায় পবিপ্রবি উপাচার্য বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে পবিপ্রবিতে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানি ভাষার কোর্স চালুর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বুয়েট) ২৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অংশ নেন।
সভায় জানানো হয়, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, অঞ্চলভিত্তিক ভাষার চাহিদা নিরূপণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক কোর্সের ধরন নির্ধারণের বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে।
অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। দেশে ও বিদেশে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি ভাষাগত দক্ষতাও প্রয়োজন। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার মান ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব সক্ষমতা, প্রয়োজনীয় জনবল এবং ভাষা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা দ্রুত ইউজিসিকে জানাবে। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ভাষা চালু না করে বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যের ভিত্তিতে অঞ্চলভিত্তিক কর্মসংস্থানের চাহিদা বিবেচনা করে ভাষা নির্বাচন করা হবে।
এ ছাড়া নন-ক্রেডিট কোর্সের পাশাপাশি বিভাগভিত্তিক অন্তত একটি ক্রেডিট কোর্স চালুর প্রস্তাব করা হয়। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি ছয় মাসের স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্স চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়।
মতবিনিময় সভায় ভাষা শিক্ষার সঙ্গে শিল্প ও একাডেমিয়ার সংযোগ বাড়ানো, যৌথ গবেষণা ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিক্স, সাইবার সিকিউরিটি ও ডেটা সায়েন্সের মতো আধুনিক বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার হাব হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইন্টারন্যাশনাল অফিস’ স্থাপনের উদ্যোগের কথাও সভায় তুলে ধরা হয়। প্রাথমিকভাবে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে যুক্ত করে ‘স্টাডি ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি পোর্টাল চালুর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
ইউজিসি সূত্রে জানা যায়, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হবে।
মতামত