বিয়েসংক্রান্ত একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর মামলাটিকে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে দাবি করেছেন মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহ। একই সঙ্গে মামলার এজাহারে উল্লিখিত বিভিন্ন তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেছেন, তার বক্তব্যের পক্ষে তাদের কাছে প্রয়োজনীয় দলিল-প্রমাণ রয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব দাবি করেন তিনি। পোস্টে মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহ জানান, মামলার নির্ধারিত তারিখে তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তার ভাষ্য, আদালতে বিষয়টি সামনে আসার পর প্রতিপক্ষের করা অভিযোগের পেছনের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা বিভিন্ন বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। তার দাবি, এজাহারে দেওয়া প্রত্যেকটি বক্তব্যের বিপরীতে তাদের কাছে দলিল ও প্রমাণ রয়েছে, যা প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে উপস্থাপন করা হবে।
মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহ আরও দাবি করেন, তাকে সামাজিকভাবে হেয় ও হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে কী ধরনের প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে, তা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি মামলার পেছনে কারা ভূমিকা রেখেছেন, কারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তার ছেলেকে কারা গোপনে রেখেছেন—এমন কয়েকটি প্রশ্নও তোলেন। একই সঙ্গে নাঈমা কার সঙ্গে বের হয়েছেন এবং পরবর্তীতে কারা তাকে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করেছেন, সেসব বিষয়ও ভবিষ্যতে পরিষ্কার হবে বলে দাবি করেন তিনি।
মামলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ব্যক্তির আচরণ তিনি পর্যবেক্ষণ করছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহ। এ সময় কঠিন পরিস্থিতিতে যারা তার পাশে থেকেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
তিনি বলেন, মিথ্যা অপবাদ ও অসম্মানের অভিযোগ মোকাবিলা করা কষ্টকর হলেও পরিস্থিতির কারণে তাকে নীরব থাকতে হয়েছে। তবে তার দাবি, সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা সবার সামনে প্রকাশ পাবে।
পোস্টের শেষাংশে তিনি ধৈর্য ধারণ এবং নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনার কথা উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি পবিত্র কোরআনের সূরা আল-বাকারার ১৫৩ নম্বর আয়াতের অর্থ উদ্ধৃত করে ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আল্লাহর থাকার কথা উল্লেখ করেন।
এদিকে, মামলাটির প্রকৃত ঘটনা জানতে আদালতের নথি, মামলার এজাহার, বাদীপক্ষের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহর করা ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ মামলার দাবি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
মতামত