পটুয়াখালীর গলাচিপায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে কালিকাপুর এলাকার আবুল হোসেনের দুই ছেলে মিরাজ খান (৩০) ও মিশন খান (২৭) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মিরাজ খানকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ‘চাইনিজবার ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে কালিকাপুর একাদশ ও মাটিভাঙ্গা চ্যালেঞ্জ একাদশ মুখোমুখি হয়। খেলায় কালিকাপুর একাদশ এক গোলে এগিয়ে ছিল।
খেলা শেষ হওয়ার প্রায় ১০ মিনিট আগে দুই দলের দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে মাঠে থাকা দুই দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সংঘর্ষ আরও বড় আকার ধারণ করে।
স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষের সময় কালিকাপুর একাদশের টিম লিডার মিরাজ খানকে ইট দিয়ে মুখমণ্ডলে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে মিশন খান (২৭), জলিল খান (৬০), মজিবর প্যাদা (৪৮), লাল মিয়া (৫২), বেল্লাল মুন্সি (২৭), রাসেল গাজী (৩২), হান্নান মৃধা (৬০), কামাল (৪৫), সাইফুল কাজী, সানাউল্লাহ (২৮), আবুল হাওলাদার (৬০), শাকিল (২৫), রাখাইন ডিস্কু, জাকির হোসেন (৩৫), কবির হোসেন (৩৮), আলমগীর হোসেন (৩৭), আরিয়ান তালুকদার (১৮), মানিক (২৫) ও রনি রয়েছেন। আহত অন্যদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এ ঘটনায় আবুল হোসেন খান বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে মাটিভাঙ্গা এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে থানায় নেওয়া হয়।
ফুটবল টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক কামাল মৃধা বলেন, ‘চাইনিজবার ফুটবল টুর্নামেন্টে ৩২টি দল অংশ নিয়েছে। বুধবারের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য মাটিভাঙ্গা চ্যালেঞ্জ একাদশ দায়ী। তাদের কারণে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এমনকি খেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের গায়েও হাত তোলা হয়েছে।’
তবে ঘটনার বিষয়ে মাটিভাঙ্গা চ্যালেঞ্জ একাদশের পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধী যে পক্ষেরই হোক, তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে জানা গেছে।
মতামত