পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় পরিবারের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় প্রবাসীর ছেলে গুলিবিদ্ধ হন। ডাকাত দলের বিরুদ্ধে পরিবারের এক নারী সদস্যকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।
শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ডাকাতরা জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে। পরে পাঁচ-ছয়জনের একটি দল তাদের হাত-পা বেঁধে মারধর শুরু করে। এ সময় ডাকাত দলের আরও কয়েকজন সদস্য বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাতরা এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে প্রবাসীর ছেলে নাইম এতে বাধা দেন। এ সময় ডাকাতরা তার হাঁটুর ওপর গুলি করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
গৃহকর্ত্রী রুমা বেগম জানান, তার স্বামী মাহিন বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রবাসী। রাতে খাবার খেয়ে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। পরে ভোররাত আড়াইটা থেকে ৩টার দিকে জানালার গ্রিল কেটে ডাকাতরা ঘরে ঢোকে। তারা পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে মারধর করে এবং তার পুত্রবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। বাধা দেওয়ায় ছেলে নাইমকে গুলি করা হয়।
রুমা বেগম আরও জানান, ডাকাতরা তার দুই বছরের নাতি তাসফিরের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ভয় দেখায়। পরে ঘরে থাকা প্রায় ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ প্রায় দুই লাখ টাকা এবং একটি আইফোন নিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ডাকাতির সময় গৃহকর্ত্রী রুমা বেগমের নাতির মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়।
ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করেন। পরে গুলিবিদ্ধ নাইমকে কলাপাড়া হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ডাকাতির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মতামত