ঢাকা-পটুয়াখালী নৌপথে চলাচলকারী পণ্যবাহী ট্রলার চালকদের কাছ থেকে নৌ পুলিশের সদস্যরা টাকা দাবি ও হয়রানি করেন—এমন অভিযোগ তুলে পটুয়াখালীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন ট্রলার চালকেরা। তাঁদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ঢাকা-পটুয়াখালী নৌপথে চলাচলকারী ট্রলার চালকদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক ট্রলারচালক অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চালকেরা অভিযোগ করেন, ঢাকা থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে পটুয়াখালীর দিকে আসার সময় নৌপথের বিভিন্ন এলাকায় তাঁদের নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জসহ কয়েকটি এলাকায় নৌ পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা দাবির অভিযোগ করেন তাঁরা।
চালকদের দাবি, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। পরে সেই মামলায় হাজিরা দিতে দূরবর্তী এলাকায় যেতে হয়। এতে ট্রলার চালকদের একদিকে যেমন অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে মামলা পরিচালনা ও যাতায়াতে গুনতে হচ্ছে বিপুল অর্থ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নৌপথে পণ্য পরিবহন দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘদিন ধরে এই পথে ট্রলার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তাঁরা। কিন্তু হয়রানি ও অর্থ দাবির অভিযোগের কারণে তাঁদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ট্রলারচালক জহিরুল গাজী বলেন, ‘ঢাকা থেকে বিভিন্ন ধরনের মালামাল নিয়ে পটুয়াখালীতে আসার সময় নারায়ণগঞ্জসহ কয়েকটি এলাকায় নৌ পুলিশের সদস্যরা টাকা দাবি করেন বলে আমাদের অভিযোগ। টাকা দিতে না চাইলে মামলায় জড়ানোর ঘটনা ঘটে। পরে সেই মামলায় হাজিরা দিতে বিভিন্ন এলাকায় যেতে হয়। এতে আমাদের লাখ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, পণ্য পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত চালকদের নিয়মিত নৌপথে চলাচল করতে হয়। কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া যাতে তাঁরা নিরাপদে পণ্য পরিবহন করতে পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এমবি রাবনা বাদ-এর চালক আসলাম মৃর্ধা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই ট্রলার চালাচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে এই নৌপথে পণ্য পরিবহনের কাজ করছি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগের কারণে আমরা সমস্যায় পড়েছি। এভাবে চলতে থাকলে পণ্য পরিবহন ব্যবসায়ও এর প্রভাব পড়বে।’
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, নৌপথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নৌ পুলিশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে দায়িত্ব পালনের নামে কোনো চালক বা শ্রমিক যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করা দরকার। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
মানববন্ধন শেষে চালকেরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের এলাকা প্রদক্ষিণ করে। পরে নৌপথে কথিত হয়রানি ও অর্থ আদায় বন্ধ এবং চালকদের নিরাপদে পণ্য পরিবহনের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে পটুয়াখালী পুলিশ সুপার বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে ট্রলার চালকেরা নৌপথে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের আচরণ ও অর্থ দাবির অভিযোগ তদন্ত, হয়রানি বন্ধ এবং চালকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা না দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তাঁরা বলেন, তাঁদের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে নৌপথে পণ্য পরিবহনের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের মধ্যে আস্থা ফিরবে। একই সঙ্গে ঢাকা-পটুয়াখালী নৌপথে পণ্য পরিবহন আরও স্বাভাবিক ও নিরাপদ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তাঁরা।
মতামত