বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (ACR)–এ প্রতিস্বাক্ষরকারী কর্মকর্তার দেওয়া নম্বর অনুমোদন ছাড়াই পরিবর্তনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পটুয়াখালীর ছয় ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসন।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে শাস্তির মেয়াদে পদোন্নতির জন্য তাদের বিবেচনা না করার এবং সার্ভিস বইয়ে শাস্তির আদেশ লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন—পটুয়াখালীর আমখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার ঝুমা, সদর উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (সংযুক্তি পৌর ভূমি অফিস) মো. মাহাতাব, বাউফলের ধুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. আল কাউছার, গলাচিপা ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা এ.এস.এম. মুরাদুল ইসলাম, রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. আবু আসকর এবং দশমিনা উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম।
অভিযোগে বলা হয়, বিভিন্ন বছরের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে (ACR) প্রতিস্বাক্ষরকারী কর্মকর্তার দেওয়া নম্বর যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই পরিবর্তন করা হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।
বিভাগীয় মামলার শুনানিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া হয়। তাদের লিখিত জবাব, ব্যক্তিগত বক্তব্য, তথ্য-প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনা শেষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসনের আদেশ অনুযায়ী, ছয় কর্মকর্তার ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি স্থগিত থাকবে। এ সময় তারা কোনো পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন না। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্ভিস বইয়ে শাস্তির আদেশ লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, সরকারি নথি ও তথ্যের নির্ভুলতা প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অন্যতম ভিত্তি। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী পটুয়াখালীর ছয় ভূমি কর্মকর্তার বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত স্থগিত রাখার দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনে শৃঙ্খলা, সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি নথিপত্রের যথার্থতা বজায় রাখতে বিভাগীয় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সরকারি নথিতে অননুমোদিত পরিবর্তন, তথ্য বিকৃতি কিংবা দায়িত্ব পালনে বিধিবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি নথিপত্র সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও সতর্ক থাকার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন বিভাগীয় কমিশনার।
মতামত