পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ভাঙনকবলিত তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও অপসারণে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
রোববার বিচারপতি আহমদ সোহেল ও বিচারপতি ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতের এ আদেশের পর তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনকবলিত তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের জন্য খবর পটুয়াখালী ও প্রথম আলো এবং রিটকারী আইনজীবীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এর আগে তেঁতুলিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে খবর পটুয়াখালী ও প্রথম আলোতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গত ৩ জুলাই খবর পটুয়াখালীতে ‘ইজারা বন্ধের পরও তোলা হচ্ছে বালু, নেপথ্যে নেতা’ এবং ২২ জুলাই ‘ভাঙনকবলিত নদীতে বালু তোলা চলছেই’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। একই বিষয়ে ২৩ জুলাই প্রথম আলোতে ‘বাউফলে অবৈধ বালু তোলা, দোষীদের ধরুন, নদী বাঁচান’ শিরোনামে সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়।
এসব প্রতিবেদন সংযুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহা. মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন গত ১২ আগস্ট হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন করেন। রোববার তিনি নিজেই রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন।
শুনানি শেষে আদালত জানতে চান, তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনকবলিত অংশে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ধারা ৯(১)(বি) অনুযায়ী হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে ছাড়া জারি করা বালুমহাল বিজ্ঞপ্তিকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়েও রুল জারি করা হয়েছে।
রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনকবলিত এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও অপসারণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি নথিপত্রে নদীটির নাম ভুল বা অপ্রচলিতভাবে ‘বুড়া গৌরাঙ্গ’ হিসেবে উল্লেখ থাকলে তা সংশোধন করে প্রকৃত নাম ‘তেঁতুলিয়া নদী’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ বিষয়ে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
রিটে ভূমি সচিব, পানি সম্পদ সচিব, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান, বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, বাউফলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), বাউফল থানার ওসি এবং বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।
আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ভাঙনকবলিত মানুষের দুর্ভোগ ও মানবিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জনস্বার্থে তিনি রিটটি করেন। হাইকোর্টের দেওয়া আদেশে তিনি সন্তুষ্ট। ভাঙনকবলিত মানুষের পাশে তিনি রয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন বলে জানান তিনি।
মতামত