বরিশালের বানারীপাড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন প্রকল্পের বিল পরিশোধকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের আওতায় কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে অর্থ লেনদেনের উল্লেখ থাকা একটি হাতে লেখা হিসাবপত্র নিয়েও এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারী নুরে আলম সিদ্দিকী বরিশালে স্কাই ভিউ অনলাইন কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। তাঁর দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন প্রকল্পের আওতায় গত অর্থবছরের বিল নিয়ম অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুন মাসে বানারীপাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়া হয়। যাচাই-বাছাই শেষে প্রায় ৮ লাখ টাকার বিল চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়।
নুরে আলম সিদ্দিকীর অভিযোগ, বিল পরিশোধের কয়েক দিন পর বানারীপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম মিঠু তাঁকে ফোন করে অর্থ দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনে বলা হয়, ‘এখানে ব্যবসা করতে হলে আমাদের টাকা দিতে হবে।’
অভিযোগকারী জানান, বিষয়টি মীমাংসার জন্য তিনি প্রথমে ১ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। তাঁর দাবি, পরে ৩ লাখ টাকার বেশি অর্থ দাবি করা হয়। ভবিষ্যতে বানারীপাড়ায় ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধা তৈরি না হয়, সে জন্য তিনি অভিযোগটির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
হাতে লেখা হিসাবপত্র ঘিরেও প্রশ্ন
অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি হাতে লেখা নোট বা হিসাবপত্র নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। সেখানে বিভিন্ন সময়ে ১ হাজার, ২ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ নেওয়ার তথ্য রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে ফি এবং কোথাও প্রয়োজনীয় খরচের কথা উল্লেখ করে অর্থ গ্রহণের হিসাব লেখা রয়েছে।
তবে এসব অর্থ কোন খাতে, কার কাছ থেকে এবং কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে, তা ওই নথি থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শিক্ষকদেরও অভিযোগ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম মিঠু নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তিনি শিক্ষা অফিসে প্রভাব বিস্তার এবং দালালির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে মনিরুল আলম মিঠুর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, অর্থ লেনদেন ও চাঁদা দাবির অভিযোগসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
মতামত