ঢাকা    শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
পটুয়াখালী টুডে

আলিপুর ব্রিজের নিচে অসহায়ের চায়ের দোকান ভাঙচুর: উচ্ছেদের অধিকার কার?



আলিপুর ব্রিজের নিচে অসহায়ের চায়ের দোকান ভাঙচুর: উচ্ছেদের অধিকার কার?
আলিপুর ব্রিজের নিচে অসহায়ের চায়ের দোকান ভাঙচুর: উচ্ছেদের অধিকার কার?

পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন আলিপুর ব্রিজের নিচে সড়ক বিভাগের খাসজমিতে গড়ে ওঠা আলমগীর হোসেনের ছোট্ট চায়ের দোকান ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা হলে সেটি উচ্ছেদের আইনগত ক্ষমতা কার?

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে একটি ছোট চায়ের দোকান পরিচালনা করে আসছিলেন। দোকানটি তার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। তার স্ত্রীও দোকানটি পরিচালনার কাজে যুক্ত থাকেন। এই সামান্য দোকানের আয় দিয়েই তাদের সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চলে।

অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি খালেক খলিফা নিজে উপস্থিত থেকে কয়েকজন লোক নিয়ে আলমগীর হোসেনের চায়ের দোকানটি ভেঙে চুরমার করে দেন। এতে অসহায় পরিবারটি চরম বিপাকে পড়েছে।

ভুক্তভোগীর প্রশ্ন, দোকানটি যদি সড়ক বিভাগের খাসজমিতে অবৈধভাবে স্থাপিত হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগ বা প্রশাসন আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ করতে পারে। কিন্তু একজন ব্যক্তি বা প্রভাবশালী মহল কীভাবে নিজ উদ্যোগে অন্যের দোকান ভেঙে দেওয়ার অধিকার পেলেন?

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা থাকলে প্রশাসনের নিয়মতান্ত্রিক উচ্ছেদ অভিযান হওয়া উচিত। কিন্তু কোনো ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে তা ভেঙে দিলে সেটি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার শামিল কি না—এ বিষয়েও তদন্ত প্রয়োজন।

আলমগীর হোসেন বলেন, “এই দোকানটিই আমার পরিবারের একমাত্র সম্বল। আমার স্ত্রী দোকানটি চালান। দোকানের আয় দিয়েই আমাদের সংসারের সব খরচ চলে। হঠাৎ দোকানটি ভেঙে দেওয়ায় আমরা খুব অসহায় হয়ে পড়েছি।”

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে দেখা হোক—দোকানটি উচ্ছেদের প্রয়োজন থাকলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ কেন ব্যবস্থা নিল না এবং কী কারণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে একজন অসহায় মানুষের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ভেঙে দেওয়া হলো।

এ বিষয়ে সড়ক বিভাগ ও প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন উঠেছে—আলিপুর ব্রিজের নিচের খাসজমিতে থাকা দোকানপাট উচ্ছেদের আইনগত কর্তৃত্ব কার? সরকারি জমি দখলমুক্ত করার নামে কোনো ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে নিজ হাতে উচ্ছেদ করতে পারেন কি না?

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং যদি কারও ক্ষমতার অপব্যবহার বা বেআইনি হস্তক্ষেপের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

পটুয়াখালী টুডে

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আলিপুর ব্রিজের নিচে অসহায়ের চায়ের দোকান ভাঙচুর: উচ্ছেদের অধিকার কার?

প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন আলিপুর ব্রিজের নিচে সড়ক বিভাগের খাসজমিতে গড়ে ওঠা আলমগীর হোসেনের ছোট্ট চায়ের দোকান ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা হলে সেটি উচ্ছেদের আইনগত ক্ষমতা কার?


স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে একটি ছোট চায়ের দোকান পরিচালনা করে আসছিলেন। দোকানটি তার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। তার স্ত্রীও দোকানটি পরিচালনার কাজে যুক্ত থাকেন। এই সামান্য দোকানের আয় দিয়েই তাদের সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চলে।


অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি খালেক খলিফা নিজে উপস্থিত থেকে কয়েকজন লোক নিয়ে আলমগীর হোসেনের চায়ের দোকানটি ভেঙে চুরমার করে দেন। এতে অসহায় পরিবারটি চরম বিপাকে পড়েছে।


ভুক্তভোগীর প্রশ্ন, দোকানটি যদি সড়ক বিভাগের খাসজমিতে অবৈধভাবে স্থাপিত হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগ বা প্রশাসন আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ করতে পারে। কিন্তু একজন ব্যক্তি বা প্রভাবশালী মহল কীভাবে নিজ উদ্যোগে অন্যের দোকান ভেঙে দেওয়ার অধিকার পেলেন?


এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা থাকলে প্রশাসনের নিয়মতান্ত্রিক উচ্ছেদ অভিযান হওয়া উচিত। কিন্তু কোনো ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে তা ভেঙে দিলে সেটি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার শামিল কি না—এ বিষয়েও তদন্ত প্রয়োজন।


আলমগীর হোসেন বলেন, “এই দোকানটিই আমার পরিবারের একমাত্র সম্বল। আমার স্ত্রী দোকানটি চালান। দোকানের আয় দিয়েই আমাদের সংসারের সব খরচ চলে। হঠাৎ দোকানটি ভেঙে দেওয়ায় আমরা খুব অসহায় হয়ে পড়েছি।”


স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে দেখা হোক—দোকানটি উচ্ছেদের প্রয়োজন থাকলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ কেন ব্যবস্থা নিল না এবং কী কারণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে একজন অসহায় মানুষের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ভেঙে দেওয়া হলো।


এ বিষয়ে সড়ক বিভাগ ও প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন উঠেছে—আলিপুর ব্রিজের নিচের খাসজমিতে থাকা দোকানপাট উচ্ছেদের আইনগত কর্তৃত্ব কার? সরকারি জমি দখলমুক্ত করার নামে কোনো ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে নিজ হাতে উচ্ছেদ করতে পারেন কি না?


স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং যদি কারও ক্ষমতার অপব্যবহার বা বেআইনি হস্তক্ষেপের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


পটুয়াখালী টুডে

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান: মোঃ আতিকুল ইসলাম
ভাইস চেয়ারম্যান: মোঃ জাকারিয়া হোসেন
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুর রহিম মেহেদী
বার্তা সম্পাদক: মোঃ মাসুদ খান

কপিরাইট © ২০২৬ পটুয়াখালী টুডে । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
আলিপুর ব্রিজের নিচে অসহায়ের চায়ের দোকান ভাঙচুর: উচ্ছেদের অধিকার কার?
0:00 0:00
1.0x