ঢাকা    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
পটুয়াখালী টুডে

গলাচিপায় তিন কিলোমিটার সড়কে বর্ষার দুর্ভোগ, খাটে করে নিতে হয় রোগী



গলাচিপায় তিন কিলোমিটার সড়কে বর্ষার দুর্ভোগ, খাটে করে নিতে হয় রোগী
গলাচিপায় তিন কিলোমিটার সড়কে বর্ষার দুর্ভোগ, খাটে করে নিতে হয় রোগী

 পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার নলুয়াবাগী ইউনিয়নের ঢালীর বাজার থেকে ননুয়াবাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্ষায় দুর্ভোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই কাঁচা সড়কটি কাদায় পরিণত হয়। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি হেঁটে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে।

সড়কটি ব্যবহার করে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ মানুষ চলাচল করেন। বর্ষা মৌসুমে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কয়েক হাজার মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রেও তৈরি হয় বিপাকে পড়ার মতো পরিস্থিতি। অনেক সময় রোগীকে খাটে করে কাঁধে তুলে হাসপাতালে নিতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন আগে মাহতাব ফরাজি নামে এক অসুস্থ বৃদ্ধকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় সড়কের কাদার কারণে ব্যাপক দুর্ভোগে পড়তে হয়। যানবাহন চলাচল করতে না পারায় তাকে খাটে করে কাঁধে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি বর্ষায় সড়কটির একই চিত্র দেখা গেলেও স্থায়ীভাবে পাকা করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে দাবি জানানো হলেও এখনো সড়কটির স্থায়ী সমাধান হয়নি।

স্থানীয়রা বলেন, বর্ষায় সড়কে কাদা জমে থাকায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের চলাচলে চরম সমস্যা হয়। কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে গিয়ে অনেকের পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতিও ব্যাহত হচ্ছে।

কৃষকদেরও পড়তে হচ্ছে বাড়তি ভোগান্তিতে। তাদের ভাষ্য, বর্ষাকালে মাঠ থেকে কৃষিপণ্য বাজারে নিতে পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। কাদাময় সড়কে অনেক সময় যানবাহন আটকে যায়, এমনকি উল্টে পড়ার ঘটনাও ঘটে। এতে একদিকে পরিবহন ব্যয় বাড়ে, অন্যদিকে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

স্থানীয়দের মতে, সড়কটি শুধু একটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের পথ নয়। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘদিনেও সড়কটি পাকা না হওয়ায় জনদুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে।

নলুয়াবাগী বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, তাঁর বিদ্যালয়ে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। বর্ষা শুরু হলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকেই কাদা মাড়িয়ে আসতে না পেরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকে। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়াতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সড়কটির স্থায়ী সংস্কার ও পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির অবসান করবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

পটুয়াখালী টুডে

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


গলাচিপায় তিন কিলোমিটার সড়কে বর্ষার দুর্ভোগ, খাটে করে নিতে হয় রোগী

প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

 পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার নলুয়াবাগী ইউনিয়নের ঢালীর বাজার থেকে ননুয়াবাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্ষায় দুর্ভোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই কাঁচা সড়কটি কাদায় পরিণত হয়। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি হেঁটে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে।

সড়কটি ব্যবহার করে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ মানুষ চলাচল করেন। বর্ষা মৌসুমে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কয়েক হাজার মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রেও তৈরি হয় বিপাকে পড়ার মতো পরিস্থিতি। অনেক সময় রোগীকে খাটে করে কাঁধে তুলে হাসপাতালে নিতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন আগে মাহতাব ফরাজি নামে এক অসুস্থ বৃদ্ধকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় সড়কের কাদার কারণে ব্যাপক দুর্ভোগে পড়তে হয়। যানবাহন চলাচল করতে না পারায় তাকে খাটে করে কাঁধে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি বর্ষায় সড়কটির একই চিত্র দেখা গেলেও স্থায়ীভাবে পাকা করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে দাবি জানানো হলেও এখনো সড়কটির স্থায়ী সমাধান হয়নি।

স্থানীয়রা বলেন, বর্ষায় সড়কে কাদা জমে থাকায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের চলাচলে চরম সমস্যা হয়। কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে গিয়ে অনেকের পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতিও ব্যাহত হচ্ছে।

কৃষকদেরও পড়তে হচ্ছে বাড়তি ভোগান্তিতে। তাদের ভাষ্য, বর্ষাকালে মাঠ থেকে কৃষিপণ্য বাজারে নিতে পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। কাদাময় সড়কে অনেক সময় যানবাহন আটকে যায়, এমনকি উল্টে পড়ার ঘটনাও ঘটে। এতে একদিকে পরিবহন ব্যয় বাড়ে, অন্যদিকে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

স্থানীয়দের মতে, সড়কটি শুধু একটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের পথ নয়। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘদিনেও সড়কটি পাকা না হওয়ায় জনদুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে।

নলুয়াবাগী বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, তাঁর বিদ্যালয়ে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। বর্ষা শুরু হলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকেই কাদা মাড়িয়ে আসতে না পেরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকে। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়াতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সড়কটির স্থায়ী সংস্কার ও পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির অবসান করবে।


পটুয়াখালী টুডে

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান: মোঃ আতিকুল ইসলাম
ভাইস চেয়ারম্যান: মোঃ জাকারিয়া হোসেন
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুর রহিম মেহেদী
বার্তা সম্পাদক: মোঃ মাসুদ খান

কপিরাইট © ২০২৬ পটুয়াখালী টুডে । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
গলাচিপায় তিন কিলোমিটার সড়কে বর্ষার দুর্ভোগ, খাটে করে নিতে হয় রোগী
0:00 0:00
1.0x