পটুয়াখালীর গলাচিপায় মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষি বাবুল খান (৬০)। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খারিজ্জমা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামছু খানের ছেলে বাবুল খান দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় চার থেকে পাঁচটি ঘের ও পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে আসছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাঁর একটি মাছের ঘেরে দুর্বৃত্তরা বিষ প্রয়োগ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, মৃগেল, মিনার কার্প ও সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা যায়।
ঘেরের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আরিফ হোসেন জানান, বিষ প্রয়োগের পর মাছগুলো পানিতে ছটফট করতে করতে ঘেরের পাড়ে উঠে আসে। বড় আকারের অনেক মাছ পানির মধ্যেই মারা যায়। শুক্রবার সকালে ঘেরে গিয়ে মাছ মরে ভেসে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় করেন। তাঁর দাবি, কয়েক মণ মাছ ইতোমধ্যে মারা গেছে। দ্রুত মৃত মাছ অপসারণ ও মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা না করলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরু মৃধা জানান, ঘেরটিতে তিন থেকে চার কেজি ওজনের প্রায় ২০ হাজার মাছ ছিল। বিষ প্রয়োগের ঘটনায় মাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় ঘেরের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আরিফ হোসেন কলাগাছিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাকসুদুর রহমান বলেন, মাছ মারা যাওয়ার ঘটনায় ঘেরের মালিক বাবুল খান বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
খবর পেয়ে কলাগাছিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, ঘেরটিতে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করা হবে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ঘটনাটি জানতে পেরেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাছচাষিরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনায় শুধু একজন উদ্যোক্তার আর্থিক ক্ষতিই নয়, স্থানীয় মৎস্য খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মতামত