বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়ক যেন দিন দিন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হচ্ছে। ৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন যাত্রীরা। চলতি বছরের আট মাসেই এ সড়কে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। এর মধ্যে মাত্র এক সপ্তাহে প্রাণ গেছে ১৪ জনের।
উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়লেও তা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাত্রীদের মধ্যে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, এরুলিয়া স্কুলের সামনে, বিমানবন্দর এলাকা, কাজীপাড়া বাসস্ট্যান্ড, দুপচাঁচিয়া বাজার, আদমদীঘি ও সান্তাহারসহ কয়েকটি স্থানকে দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র দুই লেনের সড়কটিতে প্রতিনিয়ত দ্রুতগতির বাস ও ট্রাক চলাচল করে। এর সঙ্গে রয়েছে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ। সরু সড়কে এত বেশি যান চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদের এলাকার রাস্তাটি তুলনামূলকভাবে সরু। এখানে অনেক কলকারখানা রয়েছে এবং একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। সড়কটি ছোট হওয়ায় বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। এটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চার লেনে উন্নীত না করা পর্যন্ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে। এর আগেও এই সড়কে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে।’
তবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।
বগুড়া সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল হক বলেন, ‘অটোরিকশা ও দ্রুতগতির যানবাহন একই সড়কে চলাচল করছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে দুর্ঘটনা কিছুটা কমানো যেতে পারে।’
সবশেষ শুক্রবার একই মহাসড়কে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় বহু মানুষ হতাহত হন। পরপর এসব দুর্ঘটনার ঘটনায় এই পথে নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মতামত