র্যালি, দুর্যোগবিষয়ক মহড়া, রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে ভোলার চরফ্যাশনে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্যোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, আগাম প্রস্তুতি এবং নিরাপদ জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
আভাস দুর্বার প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চরফ্যাশনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইমাদুল হোসেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চরফ্যাশন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জি.এম. ওয়ালিউর ইসলাম, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) চরফ্যাশনের সহকারী পরিচালক মাহতাবুল বারী শিপু এবং উত্তর চর মানিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে দুর্বার কন্যারা, দুর্বার প্রকল্পের টিম সদস্য, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলা, সতর্কতা অবলম্বন এবং দুর্যোগকালীন করণীয় সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দিবসটি উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্যোগবিষয়ক জ্ঞান অর্জন, সৃজনশীলতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আগ্রহ তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতা ও প্রস্তুতির গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। দুর্যোগের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ, সতর্কবার্তা অনুসরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে ধারণা রাখা গেলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে ভোলার চরফ্যাশনে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণদের দুর্যোগ মোকাবিলায় সম্পৃক্ত করা হলে পরিবার ও সমাজে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া সহজ হয়।
আভাস দুর্বার প্রকল্পের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে সম্মিলিত উদ্যোগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একটি নিরাপদ ও দুর্যোগসহনশীল সমাজ গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মতামত