দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক পর্যায়ে প্রস্তুতি জোরদার এবং দুর্যোগ সহনশীল সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও অগ্নিনির্বাপণ বিষয়ে সচেতনতামূলক মহড়ার আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসন চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। ‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
র্যালিটি কলাপাড়া পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোকছেদুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কলাপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি গাজী ফারুক এবং এনজিও প্রতিনিধি মো. মনিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সভায় বক্তারা বলেন, দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি, জনসচেতনতা এবং সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ও অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় সাধারণ মানুষের প্রস্তুত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁরা আরও বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি শুধু সরকারি দপ্তর বা উদ্ধারকারী সংস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। প্রতিটি পরিবারকে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্যোগের সময় করণীয় সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়ার পর নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া, জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত রাখা এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
বক্তারা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগণ, স্বেচ্ছাসেবক, জনপ্রতিনিধি, সরকারি দপ্তর ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁদের মতে, দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, দুর্যোগকালীন দ্রুত সাড়া এবং পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম কার্যকর করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
আলোচনা সভা শেষে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অগ্নিনির্বাপণ বিষয়ে একটি সচেতনতামূলক মহড়া প্রদর্শন করেন। মহড়ায় আগুন লাগার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে উপস্থিত ব্যক্তিদের ধারণা দেওয়া হয়। এ ধরনের মহড়া সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি তৈরিতে সহায়ক বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের এ কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, নিরাপদ পরিবার গঠন এবং উপকূলীয় জনপদকে আরও দুর্যোগসহনশীল করে তোলার বার্তা তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে কলাপাড়ায় দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা আরও জোরদার হবে।
মতামত