জমিজমা বিরোধের জেরে মারধরের অভিযোগ; আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি, অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান
ভোলার দৌলতখানে মমতাজ বেগম (৬০) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার উত্তর জয়নগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন উত্তর জয়নগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাতাব্বর বাড়ির মো. কাশেম (৫৫) ও মোসা. রাজিয়া বেগম (৫০)। পুলিশ জানিয়েছে, কাশেম মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর এবং রাজিয়া ২ নম্বর আসামি।
জমিজমা বিরোধে হামলার অভিযোগ
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে উত্তর জয়নগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একটি পাকা সড়কে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মমতাজ বেগমের ওপর হামলা করা হয়। তিনি বাদীর চাচার বাড়ির পশ্চিম পাশের সড়কে ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তাঁকে মারধর করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
স্বামীর করা মামলায় দুজন গ্রেপ্তার
মমতাজ বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁর স্বামী মো. জাহাঙ্গীর বাদী হয়ে দৌলতখান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ২৮ এবং জিআর নম্বর ১৭৭/২৬। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় কাশেম ও রাজিয়াকে যথাক্রমে ১ ও ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার
দৌলতখান থানা পুলিশ জানায়, মামলা দায়েরের পর ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার, পিপিএম (বার)-এর নির্দেশনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে উত্তর জয়নগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অভিযান চালিয়ে কাশেম ও রাজিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে।
অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান
মামলার তদন্তের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, বর্তমানে দৌলতখান উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা এবং মামলার অন্যান্য বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি বলা যাচ্ছে না।
মতামত