বরগুনার আমতলীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর সুপারভাইজার ও তথ্যসংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনজুরুল কায়সারের অপসারণের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
অভিযোগ উঠেছে, ফ্যামিলি কার্ডের অস্থায়ী জনবল নিয়োগে নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, তাদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির স্ত্রী, বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের ছাত্রলীগের সভাপতি এবং নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যদের নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বিধিবিধান ও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের এমন নিয়োগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনজুরুল কায়সারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, তিনি আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে বিভিন্ন দায়িত্বে থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর সাবেক রাজনৈতিক পরিচয় ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া সমাজসেবা কার্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে নানা অভিযোগ তোলা হয়েছে। এমনকি দীর্ঘদিন আগে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির নামে এখনও বিধবা ভাতা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনজুরুল কায়সারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, “ফ্যামিলি কার্ডের অস্থায়ী নিয়োগের জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটির সদস্যসচিব হলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনজুরুল আহসান।”
নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এরকম কিছু হয়ে থাকলে বিধি মোতাবেক তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিষয়টি বরগুনার জেলা প্রশাসক মিজ্ তাসলিমা আক্তারকে জানানো হলে তিনি অভিযোগটি নোট করে রাখেন এবং বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
স্থানীয়দের দাবি, ফ্যামিলি কার্ডের জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করা হোক এবং অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
মতামত