ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
পটুয়াখালী টুডে

কুয়াকাটায় প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ ও ভবন নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন



কুয়াকাটায় প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ ও ভবন নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন
কুয়াকাটায় প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ ও ভবন নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

২৬ বছরেও মেলেনি জাতীয়করণের স্বীকৃতি, অনিশ্চয়তায় উপকূলের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটার পশ্চিম খাজুরা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ ও স্থায়ী ভবন নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। উপকূলীয় জনপদের দরিদ্র জেলে পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে লেবুর বনসংলগ্ন সমুদ্রসৈকত এলাকার পশ্চিম খাজুরায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে শত শত নারী-পুরুষের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়। এ সময় বক্তারা বলেন, দুর্গম উপকূলীয় এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম ভরসা পশ্চিম খাজুরা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে গেলেও এখনো জাতীয়করণের আওতায় আসেনি। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও স্থায়ী ভবনের অভাবে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষার ভরসা বিদ্যালয়টি

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। পর্যটননগরী কুয়াকাটার অদূরে অবস্থিত পশ্চিম খাজুরা এলাকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকা সমুদ্রনির্ভর। এখানকার অনেক পরিবার মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন করতে হয়।

এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়টি স্থানীয় শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, বিদ্যালয়টির আশপাশের প্রায় চার কিলোমিটারের মধ্যে বিকল্প কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় এখানকার শিশুদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে দরিদ্র পরিবারের অনেক শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বক্তারা বলেন, উপকূলীয় এলাকার প্রতিকূল পরিবেশ, দারিদ্র্য ও জীবিকার অনিশ্চয়তার মধ্যেও বিদ্যালয়টি শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে রেখেছে। কিন্তু স্থায়ী ভবন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাব এবং আর্থিক সংকট দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তাঁদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। একই সঙ্গে জাতীয়করণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

নিজ উদ্যোগে বিদ্যালয় টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. রেবেকা সুলতানা বলেন, “প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নিজ দায়িত্বে সাধ্যমতো অর্থ ব্যয় করে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু এভাবে আর কত দিন চলা সম্ভব? শিক্ষকতা করে জীবিকা নির্বাহ করাও এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। তবু শিশুদের মুখের দিকে তাকিয়ে স্কুলটি টিকিয়ে রেখেছি।”

তিনি আরও বলেন, “আর্থিক সংকটের কারণে আমরা যদি এ পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হই, তবে এই এলাকার শত শত শিশুর শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়বে। আমরা চাই না, দারিদ্র্যের কারণে কোনো শিশুর ভবিষ্যৎ থেমে যাক।”

উপকূলের অবহেলিত শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ এবং স্থায়ী ভবন নির্মাণে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

নতুন করে জাতীয়করণের সুযোগ নেই: উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা

বিদ্যালয়টির জাতীয়করণের বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাহিদা বেগম বলেন, “২০১৩ সালে সারাদেশের বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে পর্যায়ক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণ করা হয়েছে। ফলে ওই তিন ধাপের বাইরে বর্তমানে নতুন করে কোনো বিদ্যালয় জাতীয়করণের সুযোগ নেই।”

তবে বিদ্যালয়টির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, জাতীয়করণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিমালা ও সীমাবদ্ধতা থাকলেও উপকূলীয় এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ ধরে রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা ও বিশেষ উদ্যোগ বিবেচনা করা প্রয়োজন।

স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় এলাকাবাসী

এলাকাবাসীর দাবি, বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে স্থায়ী ভবন নির্মাণ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির জাতীয়করণের দাবিটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান তাঁরা।

তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিদ্যালয়টির বাস্তব অবস্থা সরেজমিনে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এতে পশ্চিম খাজুরার দরিদ্র পরিবারের শিশুদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখার সুযোগ তৈরি হবে এবং উপকূলীয় এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার আরও সুদৃঢ় হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

পটুয়াখালী টুডে

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


কুয়াকাটায় প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ ও ভবন নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

২৬ বছরেও মেলেনি জাতীয়করণের স্বীকৃতি, অনিশ্চয়তায় উপকূলের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ


পটুয়াখালীর কুয়াকাটার পশ্চিম খাজুরা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ ও স্থায়ী ভবন নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। উপকূলীয় জনপদের দরিদ্র জেলে পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে লেবুর বনসংলগ্ন সমুদ্রসৈকত এলাকার পশ্চিম খাজুরায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে শত শত নারী-পুরুষের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়। এ সময় বক্তারা বলেন, দুর্গম উপকূলীয় এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম ভরসা পশ্চিম খাজুরা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে গেলেও এখনো জাতীয়করণের আওতায় আসেনি। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও স্থায়ী ভবনের অভাবে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষার ভরসা বিদ্যালয়টি

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। পর্যটননগরী কুয়াকাটার অদূরে অবস্থিত পশ্চিম খাজুরা এলাকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকা সমুদ্রনির্ভর। এখানকার অনেক পরিবার মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন করতে হয়।

এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়টি স্থানীয় শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, বিদ্যালয়টির আশপাশের প্রায় চার কিলোমিটারের মধ্যে বিকল্প কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় এখানকার শিশুদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে দরিদ্র পরিবারের অনেক শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বক্তারা বলেন, উপকূলীয় এলাকার প্রতিকূল পরিবেশ, দারিদ্র্য ও জীবিকার অনিশ্চয়তার মধ্যেও বিদ্যালয়টি শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে রেখেছে। কিন্তু স্থায়ী ভবন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাব এবং আর্থিক সংকট দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তাঁদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। একই সঙ্গে জাতীয়করণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

নিজ উদ্যোগে বিদ্যালয় টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. রেবেকা সুলতানা বলেন, “প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নিজ দায়িত্বে সাধ্যমতো অর্থ ব্যয় করে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু এভাবে আর কত দিন চলা সম্ভব? শিক্ষকতা করে জীবিকা নির্বাহ করাও এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। তবু শিশুদের মুখের দিকে তাকিয়ে স্কুলটি টিকিয়ে রেখেছি।”

তিনি আরও বলেন, “আর্থিক সংকটের কারণে আমরা যদি এ পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হই, তবে এই এলাকার শত শত শিশুর শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়বে। আমরা চাই না, দারিদ্র্যের কারণে কোনো শিশুর ভবিষ্যৎ থেমে যাক।”

উপকূলের অবহেলিত শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ এবং স্থায়ী ভবন নির্মাণে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

নতুন করে জাতীয়করণের সুযোগ নেই: উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা

বিদ্যালয়টির জাতীয়করণের বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাহিদা বেগম বলেন, “২০১৩ সালে সারাদেশের বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে পর্যায়ক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণ করা হয়েছে। ফলে ওই তিন ধাপের বাইরে বর্তমানে নতুন করে কোনো বিদ্যালয় জাতীয়করণের সুযোগ নেই।”

তবে বিদ্যালয়টির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, জাতীয়করণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিমালা ও সীমাবদ্ধতা থাকলেও উপকূলীয় এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ ধরে রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা ও বিশেষ উদ্যোগ বিবেচনা করা প্রয়োজন।

স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় এলাকাবাসী

এলাকাবাসীর দাবি, বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে স্থায়ী ভবন নির্মাণ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির জাতীয়করণের দাবিটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান তাঁরা।

তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিদ্যালয়টির বাস্তব অবস্থা সরেজমিনে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এতে পশ্চিম খাজুরার দরিদ্র পরিবারের শিশুদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখার সুযোগ তৈরি হবে এবং উপকূলীয় এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার আরও সুদৃঢ় হবে।


পটুয়াখালী টুডে

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান: মোঃ আতিকুল ইসলাম
ভাইস চেয়ারম্যান: মোঃ জাকারিয়া হোসেন
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুর রহিম মেহেদী
বার্তা সম্পাদক: মোঃ মাসুদ খান

কপিরাইট © ২০২৬ পটুয়াখালী টুডে । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
কুয়াকাটায় প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ ও ভবন নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন
0:00 0:00
1.0x