ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
পটুয়াখালী টুডে

১২০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি ২৪০ রোগী, চাপে নাজেহাল চিকিৎসাসেবা



১২০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি ২৪০ রোগী, চাপে নাজেহাল চিকিৎসাসেবা
১২০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি ২৪০ রোগী, চাপে নাজেহাল চিকিৎসাসেবা

দশমিনা হাসপাতালে শয্যাসংকট, মেঝেতে থেকেও চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ বেড়ে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ হয়েছে। ১২০ শয্যার এ হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন প্রায় ২৪০ জন রোগী। অতিরিক্ত রোগীর চাপে কোথাও একই শয্যায় দুজনকে থাকতে হচ্ছে, আবার শয্যা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও অনেক রোগীকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সীমিত জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

হাসপাতালটির এমন পরিস্থিতিতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর কাজের চাপ কমানো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালটিতে রোগীর চাহিদার তুলনায় চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ। ফলে সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক ও নার্সকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবা দিতে হচ্ছে।

হাসপাতালের চিত্রে দেখা যায়, নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভর্তি রোগীদের জায়গা দিতে একই শয্যায় দুজনকে থাকতে হচ্ছে। অন্যদিকে, পর্যাপ্ত শয্যা না পেয়ে অনেক রোগী হাসপাতালের মেঝেতে বিছানা পেতে অবস্থান করছেন। এতে রোগীদের স্বাভাবিক চলাচল, বিশ্রাম এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণেও ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে।

সীমিত জনবলে বাড়ছে স্বাস্থ্যকর্মীদের চাপ

রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে গিয়ে নার্সদের ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে সার্বক্ষণিক সেবাদানে। সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক ও নার্সের পক্ষে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক রোগীকে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর অতিরিক্ত কর্মচাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি রোগীদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবার এমন পরিস্থিতিতে শুধু চিকিৎসক কিংবা নার্সদের ব্যক্তিগত দায়িত্বের দিকে নজর না দিয়ে হাসপাতালের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা, জনবলসংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

কারণ, একটি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান অনেকাংশে নির্ভর করে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, শয্যা এবং সহায়ক জনবলের ওপর। এসব ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতা থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

চিকিৎসাব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি

দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিস্থিতি উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে, নির্ধারিত শয্যার তুলনায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি হলে হাসপাতালের বিদ্যমান জনবল ও অবকাঠামো দিয়ে চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করা কতটা সম্ভব, তা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

চিকিৎসক ও নার্সের শূন্য পদ পূরণ, প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল বৃদ্ধি এবং রোগীর চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শয্যাসংখ্যা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জরুরি বিভাগ, ওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা ও রোগীদের সার্বিক সেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশিত।

হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথভাবে যাচাই করা অবশ্যই প্রয়োজন। তবে জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটের বাস্তবতা উপেক্ষা করে কেবল চিকিৎসক-নার্সদের দায়ী করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বরং বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে সেগুলো দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে।

দশমিনা উপজেলার সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। রোগীর তুলনায় চিকিৎসক-নার্সের সংখ্যা বাড়ানো এবং হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

পটুয়াখালী টুডে

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


১২০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি ২৪০ রোগী, চাপে নাজেহাল চিকিৎসাসেবা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দশমিনা হাসপাতালে শয্যাসংকট, মেঝেতে থেকেও চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ বেড়ে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ হয়েছে। ১২০ শয্যার এ হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন প্রায় ২৪০ জন রোগী। অতিরিক্ত রোগীর চাপে কোথাও একই শয্যায় দুজনকে থাকতে হচ্ছে, আবার শয্যা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও অনেক রোগীকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সীমিত জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

হাসপাতালটির এমন পরিস্থিতিতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর কাজের চাপ কমানো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালটিতে রোগীর চাহিদার তুলনায় চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ। ফলে সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক ও নার্সকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবা দিতে হচ্ছে।

হাসপাতালের চিত্রে দেখা যায়, নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভর্তি রোগীদের জায়গা দিতে একই শয্যায় দুজনকে থাকতে হচ্ছে। অন্যদিকে, পর্যাপ্ত শয্যা না পেয়ে অনেক রোগী হাসপাতালের মেঝেতে বিছানা পেতে অবস্থান করছেন। এতে রোগীদের স্বাভাবিক চলাচল, বিশ্রাম এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণেও ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে।

সীমিত জনবলে বাড়ছে স্বাস্থ্যকর্মীদের চাপ

রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে গিয়ে নার্সদের ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে সার্বক্ষণিক সেবাদানে। সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক ও নার্সের পক্ষে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক রোগীকে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর অতিরিক্ত কর্মচাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি রোগীদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবার এমন পরিস্থিতিতে শুধু চিকিৎসক কিংবা নার্সদের ব্যক্তিগত দায়িত্বের দিকে নজর না দিয়ে হাসপাতালের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা, জনবলসংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

কারণ, একটি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান অনেকাংশে নির্ভর করে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, শয্যা এবং সহায়ক জনবলের ওপর। এসব ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতা থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

চিকিৎসাব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি

দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিস্থিতি উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে, নির্ধারিত শয্যার তুলনায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি হলে হাসপাতালের বিদ্যমান জনবল ও অবকাঠামো দিয়ে চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করা কতটা সম্ভব, তা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

চিকিৎসক ও নার্সের শূন্য পদ পূরণ, প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল বৃদ্ধি এবং রোগীর চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শয্যাসংখ্যা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জরুরি বিভাগ, ওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা ও রোগীদের সার্বিক সেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশিত।

হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথভাবে যাচাই করা অবশ্যই প্রয়োজন। তবে জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটের বাস্তবতা উপেক্ষা করে কেবল চিকিৎসক-নার্সদের দায়ী করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বরং বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে সেগুলো দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে।

দশমিনা উপজেলার সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। রোগীর তুলনায় চিকিৎসক-নার্সের সংখ্যা বাড়ানো এবং হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।


পটুয়াখালী টুডে

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান: মোঃ আতিকুল ইসলাম
ভাইস চেয়ারম্যান: মোঃ জাকারিয়া হোসেন
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুর রহিম মেহেদী
বার্তা সম্পাদক: মোঃ মাসুদ খান

কপিরাইট © ২০২৬ পটুয়াখালী টুডে । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
১২০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি ২৪০ রোগী, চাপে নাজেহাল চিকিৎসাসেবা
0:00 0:00
1.0x