পটুয়াখালীর দশমিনায় নিষিদ্ধ সময়ে তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগে পৃথক দুই দিনের অভিযানে ১১ জেলেকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ, থানা-পুলিশ ও মৎস্য বিভাগ। এ সময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলার জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ছয় জেলেকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দুইজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক তিনজনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার ও রোববার (২৫ অক্টোবর) তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। অভিযানে নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার বন্ধ এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অংশ নেয়।
প্রথম দিনের অভিযানে চার জেলের কারাদণ্ড
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শনিবার তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগে চার জেলেকে আটক করা হয়। তাঁরা হলেন দশমিনা উপজেলার ঢনঢনিয়া গ্রামের মো. সাগর রাঢ়ী (২০), মো. ইমরান গাজী (১৯), মো. সোহাগ হোসেন মিয়া (১৯) ও মো. জহির মীর (১৯)।
এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৭০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার জব্দ করা হয়। পরে আটক জেলেদের নির্বাহী আদালতে হাজির করা হলে প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জব্দ করা কারেন্ট জাল হাজিরহাট এলাকায় পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
দ্বিতীয় দিনের অভিযানে আরও সাতজন আটক
রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে আরও সাতজনকে আটক করা হয়। তাঁরা হলেন বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঢনঢনিয়া গ্রামের জাফর গাজী (৩৫) ও মানিক (১৮)। অন্যদিকে চরবোরহান ইউনিয়নের কাওসার (১৩), সাগর গাজী (১৪), মিলন সরদার (৪০), ফিরোজ খান (২৫) ও ইমাম মোর্শেদ (১৪)।
এ সময় দুই লাখ ২০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও তিনটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার জব্দ করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মিলন সরদার ও ফিরোজ খানকে নির্বাহী আদালতে হাজির করা হলে প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
জাফর গাজী ও মানিকের বিরুদ্ধে নৌপুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। অপরদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক কাওসার, সাগর গাজী ও ইমাম মোর্শেদকে বয়স বিবেচনায় মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় দিনের অভিযানে জব্দ করা কারেন্ট জালও তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী হাজিরহাট এলাকায় পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। জব্দ করা ইঞ্জিনচালিত ট্রলারগুলো সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা প্রশাসনের
দশমিনা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফেরদাউস ও উপসহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযান চালিয়ে দুই দিনে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল ও চারটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার জব্দ করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড, দুজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক তিনজনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে এবং ট্রলারগুলো জিম্মায় রাখা হয়েছে।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযান চালিয়ে শনিবার চারজন এবং রোববার সাতজনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ছয়জনকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দুজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক তিনজনকে বয়স বিবেচনায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মা ইলিশ সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নদীতে মা ইলিশের অবাধ প্রজনন নিশ্চিত করতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নিয়মিত অভিযান, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে ইলিশের উৎপাদন ও প্রজনন সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
মতামত