পটুয়াখালীর দশমিনায় মা ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ শিকারের অভিযোগে চার জেলেকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অভিযানে প্রায় ৭০ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধার নেতৃত্বে তেঁতুলিয়া নদীতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উপজেলা মৎস্য বিভাগ, নৌপুলিশ ও দশমিনা থানা-পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন দশমিনা উপজেলার ঢনঢনিয়া গ্রামের মো. সাগর রাঢ়ী (২০), মো. ইমরান গাজী (১৯), মো. সোহাগ হোসেন মিয়া (১৯) ও মো. জহির মির (১৯)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকাকালে তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের অভিযোগে ওই চার জেলেকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে প্রত্যেককে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৭০ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা জাল ধ্বংস করা হয়। মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখা এবং নদীতে মাছের অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তেঁতুলিয়া নদী পটুয়াখালীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যসম্পদসমৃদ্ধ জলপথ। এ নদীতে মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধ রাখা ইলিশের উৎপাদন ও ভবিষ্যৎ মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার করা হলে প্রজনন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে নদীতে অবৈধ মাছ শিকার বন্ধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মা ইলিশ রক্ষা এবং সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মৎস্যসম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি জেলে ও স্থানীয় জনগণকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সম্মিলিত উদ্যোগ ও সচেতনতা বাড়ানো গেলে ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা এবং দেশের মৎস্যসম্পদের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সহজ হবে।
মতামত