শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পটুয়াখালী পৌর শহরের হিন্দু সমাজ মন্দির ও আখড়াবাড়ি মন্দির পরিদর্শন করেছেন পটুয়াখালী পৌর বিএনপির সভাপতি এবং দি পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ কামাল হোসেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) মন্দির দুটি পরিদর্শনকালে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাঁদের ব্যবসা-বাণিজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন।
দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে মন্দির পরিদর্শনের এ কর্মসূচিতে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ সময় মোহাম্মদ কামাল হোসেন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং উৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার অংশ হিসেবে এ পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মন্দিরে উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সময় তিনি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও সামাজিক বন্ধন, পারস্পরিক সম্মান ও সহমর্মিতা অটুট রাখা প্রয়োজন বলে আলোচনায় উঠে আসে।
এদিকে, মন্দির পরিদর্শনের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও কথা বলেন কামাল হোসেন। তাঁদের ব্যবসা-বাণিজ্যের বর্তমান অবস্থা, বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি। পটুয়াখালীর ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত থাকার বিষয়টিও এ কর্মসূচিতে গুরুত্ব পায়।
রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃত্ব ও ব্যবসায়ী সংগঠনের দায়িত্ব—দুই ক্ষেত্রেই সম্পৃক্ত থাকায় কামাল হোসেনের এ কর্মসূচিতে সামাজিক সম্প্রীতি এবং ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি একসঙ্গে উঠে আসে। স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের যোগাযোগ বজায় থাকলে তাঁদের প্রত্যাশা ও সমস্যাগুলো তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ কবির হোসেনসহ পৌর বিএনপি ও ব্যবসায়ী সমাজের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় তাঁদের সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে জানার সুযোগ সৃষ্টি করে।
পটুয়াখালীতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখার প্রত্যাশা এ কর্মসূচিতে গুরুত্ব পেয়েছে। সামাজিক সম্প্রীতি ও জনসম্পৃক্ততাকে সামনে রেখে স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়টিও তাৎপর্যপূর্ণ।
মতামত