ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
পটুয়াখালী টুডে

রাঙ্গাবালীতে ১২ জেলের কারাদণ্ড, ১৫ লাখ টাকার জাল ধ্বংস



রাঙ্গাবালীতে ১২ জেলের কারাদণ্ড, ১৫ লাখ টাকার জাল ধ্বংস
রাঙ্গাবালীতে ১২ জেলের কারাদণ্ড, ১৫ লাখ টাকার জাল ধ্বংস

মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের অভিযোগে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১২ জেলেকে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ৫০ হাজার মিটার অবৈধ জাল, ১৮ কেজি ইলিশ ও তিনটি মাছ ধরার ট্রলার জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। ধ্বংস করা জালের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ লাখ টাকা।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত ১১টা থেকে সোমবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১১টা পর্যন্ত উপজেলার আগুনমুখা, তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসানের দিকনির্দেশনায় উপজেলা মৎস্য বিভাগ ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের রাঙ্গাবালী আউটপোস্ট যৌথভাবে এ অভিযান চালায়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা মৎস্য বিভাগের মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ৬টার দিকে উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চররুস্তুমসংলগ্ন তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে অভিযান চালিয়ে ১২ জেলেকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসানের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে প্রত্যেককে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অভিযানকালে জব্দ করা হয় ৫০ হাজার মিটার অবৈধ জাল, ১৮ কেজি ইলিশ এবং মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত তিনটি ট্রলার। পরে জব্দ করা জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। উদ্ধার করা ইলিশ স্থানীয় একটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানান, মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আটক জেলেদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ আহরণ ও অবৈধ জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নদ-নদীতে অবৈধ মাছ ধরার কার্যক্রম বন্ধ করা গেলে মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করা সহজ হবে। এতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে জেলেদের মাছ আহরণের সুযোগ সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উল্লেখ্য, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে গত ৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের জন্য সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এ সময় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও উপকূলীয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মৎস্য বিভাগের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

পটুয়াখালী টুডে

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


রাঙ্গাবালীতে ১২ জেলের কারাদণ্ড, ১৫ লাখ টাকার জাল ধ্বংস

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের অভিযোগে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১২ জেলেকে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ৫০ হাজার মিটার অবৈধ জাল, ১৮ কেজি ইলিশ ও তিনটি মাছ ধরার ট্রলার জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। ধ্বংস করা জালের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ লাখ টাকা।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত ১১টা থেকে সোমবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১১টা পর্যন্ত উপজেলার আগুনমুখা, তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসানের দিকনির্দেশনায় উপজেলা মৎস্য বিভাগ ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের রাঙ্গাবালী আউটপোস্ট যৌথভাবে এ অভিযান চালায়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা মৎস্য বিভাগের মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ৬টার দিকে উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চররুস্তুমসংলগ্ন তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে অভিযান চালিয়ে ১২ জেলেকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসানের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে প্রত্যেককে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অভিযানকালে জব্দ করা হয় ৫০ হাজার মিটার অবৈধ জাল, ১৮ কেজি ইলিশ এবং মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত তিনটি ট্রলার। পরে জব্দ করা জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। উদ্ধার করা ইলিশ স্থানীয় একটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানান, মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আটক জেলেদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ আহরণ ও অবৈধ জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নদ-নদীতে অবৈধ মাছ ধরার কার্যক্রম বন্ধ করা গেলে মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করা সহজ হবে। এতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে জেলেদের মাছ আহরণের সুযোগ সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উল্লেখ্য, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে গত ৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের জন্য সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এ সময় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও উপকূলীয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মৎস্য বিভাগের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।


পটুয়াখালী টুডে

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান: মোঃ আতিকুল ইসলাম
ভাইস চেয়ারম্যান: মোঃ জাকারিয়া হোসেন
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুর রহিম মেহেদী
বার্তা সম্পাদক: মোঃ মাসুদ খান

কপিরাইট © ২০২৬ পটুয়াখালী টুডে । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
রাঙ্গাবালীতে ১২ জেলের কারাদণ্ড, ১৫ লাখ টাকার জাল ধ্বংস
0:00 0:00
1.0x