পটুয়াখালীর বাউফলে বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা বনরুটির ভেতরে ধারালো ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) উপজেলার বাউফল দাসপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সন্ধানী শীল (৮) ও তার মায়ের দাবি, রুটি ভাগ করে খাওয়ার সময় এর ভেতরে একটি পুরোনো ও ভাঙা ব্লেড দেখতে পান তাঁরা। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে রুটির ভেতরে কীভাবে ব্লেডটি এল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রুটি ভাঙতেই বেরিয়ে আসে ব্লেড
অভিযোগকারী শিক্ষার্থী সন্ধানী শীল বাউফল দাসপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। তার বাবা মৃত স্বপন চন্দ্রশীল। পরিবারের বসবাস বাউফল পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। সন্ধানীর মা কলি রানী একটি ছোট চায়ের দোকান পরিচালনা করে সংসার চালান।
সন্ধানীর ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় থেকে তাকে একটি বনরুটি দেওয়া হয়। সে রুটিটি তখন না খেয়ে বাড়িতে রেখে দেয়। পরে সন্ধ্যায় তার মা রুটিটি নিয়ে আসতে বললে সেটি ভেঙে দেখার সময় ভেতরে একটি ব্লেড দেখতে পান।
বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের সদস্যরা আশপাশের লোকজনকে ঘটনাটি দেখান এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়।
শিক্ষার্থী ও মায়ের বক্তব্য
শিক্ষার্থী সন্ধানী শীলের দাবি, রুটির ভেতরে ব্লেড পাওয়ার বিষয়টি জানানোর পর তার বিরুদ্ধেই ব্লেডটি রুটির মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
তার মা কলি রানী বলেন, “আমি রুটি ভেঙে দেখি, এর ভেতরে পুরোনো ও ভাঙা একটি ব্লেড রয়েছে। পরে আমার দোকানের ক্রেতা ও স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি দেখিয়েছি। আমি শিক্ষকদেরও জানিয়েছি। এ ধরনের ঘটনা আবারও ঘটল এটা কেমন কথা?”
কলি রানীর অভিযোগ, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মধ্যে এ ধরনের বস্তু পাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শিশুদের খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
শিক্ষকের বক্তব্য নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক রুমানা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। সন্ধানী খুব চালাক। সে নিজেই রুটির ভেতরে ব্লেড ভরে এমন কথা বলছে।”
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় ঘটনাটি নিয়ে আরও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে রুটির ভেতরে ব্লেড পাওয়ার অভিযোগের সত্যতা এবং কীভাবে সেটি সেখানে গেল, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি। তদন্ত ছাড়া কোনো পক্ষকে দায়ী করা সমীচীন হবে না।
শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি
ঘটনাটি সম্পর্কে বক্তব্য জানতে বাউফল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আখতার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফিডিং কর্মসূচির খাবার প্রস্তুত, প্যাকেটজাত, পরিবহন ও বিতরণের প্রতিটি পর্যায়ে মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। খাবারের মধ্যে ধারালো বা ক্ষতিকর কোনো বস্তু থাকার অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট খাবারের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, রুটির প্যাকেট ও উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হলে ব্লেডটি কীভাবে রুটির ভেতরে এসেছে, তা নির্ধারণে সহায়তা মিলতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে বিতরণ করা অন্যান্য খাবারের নিরাপত্তা ও মান নিয়েও প্রয়োজনীয় যাচাই করা দরকার।
শিশুদের নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা শুধু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নয়, সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী ও তদারককারী কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্ব। তাই বাউফলের এ ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন, দায় নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।
মতামত