ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
পটুয়াখালী টুডে

উপকূলীয় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিতে বৈষম্যবিরোধী আইন সংশোধনের দাবি



উপকূলীয় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিতে বৈষম্যবিরোধী আইন সংশোধনের দাবি
উপকূলীয় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিতে বৈষম্যবিরোধী আইন সংশোধনের দাবি

উপকূলীয় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার সুরক্ষা, সরকারি সেবায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং বৈষম্যবিরোধী আইনের খসড়ায় বাস্তবসম্মত পরিবর্তন আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে হলে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাস্তবতা, জীবনসংগ্রাম ও ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতাকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) পটুয়াখালী সদর উপজেলায় আয়োজিত জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের এক পরামর্শসভায় বক্তারা এসব দাবি তুলে ধরেন। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) এবং সেবা মানব কল্যাণ কেন্দ্রের (এসএমকেকে) যৌথ উদ্যোগে ‘NAGORIKATA: CEF’ কর্মসূচির আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা (জিএসি) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে এবং এফএমএ-জিএফএর সার্বিক সহযোগিতায় কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্যরা অংশ নেন। আলোচনায় নারী, যুবসমাজ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, হিজড়া, মান্তা, রাখাইন ও জেলে সম্প্রদায়সহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি সেবায় সমান প্রবেশাধিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বক্তারা বলেন, বৈষম্য দূর করার জন্য শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; বরং বৈষম্যের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে তার কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো জনগোষ্ঠী যেন পরিচয়, আর্থসামাজিক অবস্থা কিংবা প্রান্তিক অবস্থানের কারণে পিছিয়ে না থাকে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন।

পটুয়াখালী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক এস এম ফজলুল করিম বলেন, সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোথায় এবং কীভাবে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে, তা আগে শনাক্ত করতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিক সনদ বা সিটিজেন চার্টার সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কোনো নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ বা আবেদন উপস্থাপনের বিষয়েও মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক আসিম আব্রার বৈষম্যবিরোধী আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় সাধারণ নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বৈষম্য সম্পর্কে তথ্যভিত্তিক সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি নাগরিকদের মতামত ও অভিজ্ঞতা নীতিনির্ধারণী আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর (প্রোগ্রাম) মো. জিয়াউল করিম বৈষম্যবিরোধী আইনের খসড়াটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, উপকূলীয় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী প্রতিদিন যেসব বৈষম্য ও বঞ্চনার মুখোমুখি হয়, সেসব অভিজ্ঞতা আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় প্রতিফলিত হওয়া জরুরি। সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সুনির্দিষ্ট মতামত ও বাস্তব সমস্যাগুলো বিবেচনায় নেওয়া হলে আইনটি আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করা সম্ভব হবে।

পরামর্শসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বে ২০২২ সালের বৈষম্যবিরোধী আইনের খসড়া পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা এবং বৈষম্য প্রতিরোধে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব ও সুপারিশ তুলে ধরেন।

সুপারিশে নারীর সমকাজে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, কর্মক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ বৃদ্ধি এবং যুবসমাজের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রাপ্তি ও শিক্ষায় সমান সুযোগ সৃষ্টির কথা বলা হয়। পাশাপাশি কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, হিজড়া ও মান্তা জনগোষ্ঠীকে সব ক্ষেত্রে বৈষম্যহীনভাবে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া রাখাইন সম্প্রদায়ের ভূমির অধিকার রক্ষা এবং প্রান্তিক জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার প্রস্তাব উঠে আসে। বক্তারা মনে করেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবিকা, সামাজিক নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ‘জলবায়ু ঝুঁকি বিমা’ চালুর প্রস্তাবও সভায় গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি সেবাদানকারী সংস্থার জবাবদিহি বাড়ানো এবং ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ‘বৈষম্যবিরোধী নজরদারি কমিটি’ গঠনের সুপারিশ করা হয়। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বৈষম্যের ঘটনা শনাক্তকরণ, অভিযোগের প্রতিকার এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে মত দেন অংশগ্রহণকারীরা।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের ভৌগোলিক প্রতিকূলতা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং সীমিত সুযোগ-সুবিধার কারণে অনেক জনগোষ্ঠী এমনিতেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এর সঙ্গে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য যুক্ত হলে তাদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বৈষম্যবিরোধী আইন ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নে এসব জনগোষ্ঠীর বাস্তব প্রয়োজনকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

সমাপনী বক্তব্যে ‘NAGORIKATA: SCEGE-CVC’ প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর সুনীল জীবন চাকমা আশা প্রকাশ করেন, তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের অভিজ্ঞতা, মতামত ও যৌক্তিক দাবিগুলো ভবিষ্যতে আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারকদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবে।

পরামর্শসভায় উত্থাপিত সুপারিশগুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নিয়ে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং সরকারি সেবায় সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

পটুয়াখালী টুডে

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


উপকূলীয় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিতে বৈষম্যবিরোধী আইন সংশোধনের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

উপকূলীয় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার সুরক্ষা, সরকারি সেবায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং বৈষম্যবিরোধী আইনের খসড়ায় বাস্তবসম্মত পরিবর্তন আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে হলে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাস্তবতা, জীবনসংগ্রাম ও ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতাকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।


বুধবার (১৪ অক্টোবর) পটুয়াখালী সদর উপজেলায় আয়োজিত জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের এক পরামর্শসভায় বক্তারা এসব দাবি তুলে ধরেন। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) এবং সেবা মানব কল্যাণ কেন্দ্রের (এসএমকেকে) যৌথ উদ্যোগে ‘NAGORIKATA: CEF’ কর্মসূচির আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা (জিএসি) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে এবং এফএমএ-জিএফএর সার্বিক সহযোগিতায় কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।


সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্যরা অংশ নেন। আলোচনায় নারী, যুবসমাজ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, হিজড়া, মান্তা, রাখাইন ও জেলে সম্প্রদায়সহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি সেবায় সমান প্রবেশাধিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।


বক্তারা বলেন, বৈষম্য দূর করার জন্য শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; বরং বৈষম্যের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে তার কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো জনগোষ্ঠী যেন পরিচয়, আর্থসামাজিক অবস্থা কিংবা প্রান্তিক অবস্থানের কারণে পিছিয়ে না থাকে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন।


পটুয়াখালী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক এস এম ফজলুল করিম বলেন, সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোথায় এবং কীভাবে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে, তা আগে শনাক্ত করতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিক সনদ বা সিটিজেন চার্টার সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কোনো নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ বা আবেদন উপস্থাপনের বিষয়েও মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে।


বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক আসিম আব্রার বৈষম্যবিরোধী আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় সাধারণ নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বৈষম্য সম্পর্কে তথ্যভিত্তিক সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি নাগরিকদের মতামত ও অভিজ্ঞতা নীতিনির্ধারণী আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।


মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর (প্রোগ্রাম) মো. জিয়াউল করিম বৈষম্যবিরোধী আইনের খসড়াটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, উপকূলীয় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী প্রতিদিন যেসব বৈষম্য ও বঞ্চনার মুখোমুখি হয়, সেসব অভিজ্ঞতা আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় প্রতিফলিত হওয়া জরুরি। সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সুনির্দিষ্ট মতামত ও বাস্তব সমস্যাগুলো বিবেচনায় নেওয়া হলে আইনটি আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করা সম্ভব হবে।


পরামর্শসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বে ২০২২ সালের বৈষম্যবিরোধী আইনের খসড়া পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা এবং বৈষম্য প্রতিরোধে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব ও সুপারিশ তুলে ধরেন।


সুপারিশে নারীর সমকাজে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, কর্মক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ বৃদ্ধি এবং যুবসমাজের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রাপ্তি ও শিক্ষায় সমান সুযোগ সৃষ্টির কথা বলা হয়। পাশাপাশি কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, হিজড়া ও মান্তা জনগোষ্ঠীকে সব ক্ষেত্রে বৈষম্যহীনভাবে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


এ ছাড়া রাখাইন সম্প্রদায়ের ভূমির অধিকার রক্ষা এবং প্রান্তিক জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার প্রস্তাব উঠে আসে। বক্তারা মনে করেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবিকা, সামাজিক নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।


জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ‘জলবায়ু ঝুঁকি বিমা’ চালুর প্রস্তাবও সভায় গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি সেবাদানকারী সংস্থার জবাবদিহি বাড়ানো এবং ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ‘বৈষম্যবিরোধী নজরদারি কমিটি’ গঠনের সুপারিশ করা হয়। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বৈষম্যের ঘটনা শনাক্তকরণ, অভিযোগের প্রতিকার এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে মত দেন অংশগ্রহণকারীরা।


সভায় বক্তারা আরও বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের ভৌগোলিক প্রতিকূলতা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং সীমিত সুযোগ-সুবিধার কারণে অনেক জনগোষ্ঠী এমনিতেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এর সঙ্গে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য যুক্ত হলে তাদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বৈষম্যবিরোধী আইন ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নে এসব জনগোষ্ঠীর বাস্তব প্রয়োজনকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।


সমাপনী বক্তব্যে ‘NAGORIKATA: SCEGE-CVC’ প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর সুনীল জীবন চাকমা আশা প্রকাশ করেন, তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের অভিজ্ঞতা, মতামত ও যৌক্তিক দাবিগুলো ভবিষ্যতে আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারকদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবে।


পরামর্শসভায় উত্থাপিত সুপারিশগুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নিয়ে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং সরকারি সেবায় সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।


পটুয়াখালী টুডে

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান: মোঃ আতিকুল ইসলাম
ভাইস চেয়ারম্যান: মোঃ জাকারিয়া হোসেন
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুর রহিম মেহেদী
বার্তা সম্পাদক: মোঃ মাসুদ খান

কপিরাইট © ২০২৬ পটুয়াখালী টুডে । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
উপকূলীয় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিতে বৈষম্যবিরোধী আইন সংশোধনের দাবি
0:00 0:00
1.0x