পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে ফারহানা ইয়াসমিন শীলার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় প্রধান আসামি তাঁর স্বামী রাসেল মাহমুদ বয়াতীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের করা সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানির দিন আগামী ৯ নভেম্বর ধার্য করা হয়েছে।বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে রাঙ্গাবালী চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দোলন হাসানের আদালতে রাসেল মাহমুদ বয়াতীকে হাজির করা হলে শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়।আদালত সূত্রে জানা গেছে, শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. জসিম উদ্দিন তাঁর মক্কেলের জামিন প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহজাদা ও অ্যাডভোকেট সৈয়দ রায়হানসহ পাঁচজন আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও যুক্তি পর্যালোচনা শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। পাশাপাশি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাঙ্গাবালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এসএম সামিউল আলমের করা সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য ৯ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। পরে আসামিকে পটুয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ রায়হান বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর মামলা। আসামির জামিনের বিরোধিতা করে আদালতে প্রয়োজনীয় যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন এবং রিমান্ড আবেদনের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন।অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. জসিম উদ্দিন জানান, তাঁর মক্কেলের জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। তবে আদালত আবেদনটি গ্রহণ করেননি। আগামী ৯ নভেম্বর রিমান্ড আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই এসএম সামিউল আলম বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের স্বার্থে প্রধান আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালত শুনানির জন্য নির্ধারিত তারিখ দিয়েছেন।এর আগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ধলেশ্বরী টোল প্লাজা এলাকা থেকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১০-এর সদস্যরা রাসেল মাহমুদ বয়াতীকে গ্রেপ্তার করেন।মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের বাহেরচর বাজার এলাকার নিজ বসতঘর থেকে ফারহানা ইয়াসমিন শীলার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়। পরবর্তী সময়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সোমবার নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা রাঙ্গাবালী থানার সামনে বিক্ষোভ করেন।এরপর নিহত শীলার ভাই রাইসুল ইসলাম কমল বাদী হয়ে তাঁর স্বামী রাসেল মাহমুদ বয়াতী, চাচাতো দেবর সোহান বয়াতীসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের এক দিনের মাথায় ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে প্রধান আসামি রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করলেও রিমান্ডের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী ৯ নভেম্বরের শুনানিতে জানা যাবে। মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে।
পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরে এসে পৌঁছেছে ৬২ হাজার মেট্রিক টন কয়লাবাহী সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী মাদার ভ্যাসেল ‘এমভি এমবিএস তাইসি’। গভীর সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে আসা বিশাল আকৃতির জাহাজটির আগমনে পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চারের আশা করা হচ্ছে।সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে জাহাজটি পায়রা বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছায়। বন্দর চ্যানেল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে গভীর সমুদ্রে জাহাজটি নিরাপদে নোঙর করে। ১৯৯ মিটার দৈর্ঘ্য, ৩২ মিটার প্রস্থ এবং সাড়ে ১৩ মিটার গভীরতার এ মাদার ভ্যাসেলটি গত ২৪ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার তারাহান বন্দর থেকে কয়লা নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, জাহাজটিতে থাকা কয়লা মূলত পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হবে। কয়লাবাহী বড় জাহাজের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।পায়রা বন্দরের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন এস এম শরিফুর রহমান জানান, সোমবার রাতে মাদার ভ্যাসেলটি নির্বিঘ্নে বন্দরের বহির্নোঙরে এসে অবস্থান নেয়। পরদিন থেকেই লাইটার জাহাজের মাধ্যমে কয়লা খালাসের কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রথমে জাহাজের অর্ধেকের বেশি কয়লা ছোট লাইটার জাহাজে স্থানান্তর করা হবে। এরপর মাদার ভ্যাসেলটি বন্দরের টার্মিনালে এনে অবশিষ্ট কয়লা খালাস করা হবে।এদিকে পায়রা বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) আজিজুর রহমান জানান, বন্দরে জাহাজের আগমন অব্যাহত থাকবে। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে পায়রা বন্দর দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।সংশ্লিষ্টদের মতে, পায়রা বন্দরে বড় আকারের মাদার ভ্যাসেলের নিয়মিত আগমন দেশের সমুদ্রবাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন ও বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ইতিবাচক। বিশেষ করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে বন্দরের সক্ষমতা ও পণ্য খালাস কার্যক্রমের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।৬২ হাজার মেট্রিক টন কয়লাবাহী ‘এমভি এমবিএস তাইসি’র আগমনের মধ্য দিয়ে পায়রা বন্দরের চলমান পণ্য পরিবহন কার্যক্রমে আরও একটি নতুন সংযোজন ঘটল।
বাংলাদেশ সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের (আইডিসিপিসি) মন্ত্রী লিউ হাইশিং (Liu Haixing) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি মাজারে উপস্থিত হয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তাঁর সঙ্গে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।শ্রদ্ধা নিবেদনকালে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন, যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার কামরুল ইসলাম।চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের এ শ্রদ্ধা নিবেদনকে বাংলাদেশ ও চীনের রাজনৈতিক পর্যায়ের যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে এ কর্মসূচি দুই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্কের বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।উল্লেখ্য, চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক অংশীদার। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, অবকাঠামোগত ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও মতবিনিময়ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধির বাংলাদেশ সফর এবং এ সময় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তাঁর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে গুরুত্ব বহন করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের রাজনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার সুযোগ রয়েছে।রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে চীনা প্রতিনিধিদলের এ শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।
বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি জাহিদুলের পটুয়াখালী আগমন উপলক্ষে তাঁকে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে পটুয়াখালী জেলা শ্রমিক অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) তাঁর পটুয়াখালী আগমনকে কেন্দ্র করে জেলা শ্রমিক অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে এ শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতার আগমনকে সংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দ ও উৎসাহের সঙ্গে স্বাগত জানান।সংগঠনের নেতাকর্মীরা মনে করেন, কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের এ ধরনের সফর তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের যোগাযোগ, মতবিনিময় এবং সাংগঠনিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ সৃষ্টি হয়।শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য দাবি আদায়ে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন নেতাকর্মীরা।পটুয়াখালী জেলা শ্রমিক অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি জাহিদুলের আগমনকে স্বাগত জানিয়ে তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের সফলতা কামনা করা হয়।
পটুয়াখালী টুডে ডেস্কপটুয়ালাখীর কলাপাড়ায় কবিরাজির নামে এক কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, ভিডিও ধারণ ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. তাইজুল ইসলাম মুসাকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৮।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার টিয়াখালী এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৮-এর সিপিসি-১, পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল। গ্রেপ্তার মুসা পটুয়াখালীর মহিপুর থানার মনসাতলী গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় ওই কিশোরী লোকমুখে মুসার কবিরাজি চিকিৎসার কথা জানতে পারে। পরে চিকিৎসার জন্য তাঁর কাছে গেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ ওঠে মুসার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তাঁর সহযোগীদের সহায়তায় এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়।এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, কিশোরীর বাবা বিষয়টি জানতে পেরে মুসাকে তাঁর মেয়েকে বিয়ে করার অনুরোধ করেন। তবে তিনি বিয়েতে অস্বীকৃতি জানান। পরে মুসা ও তাঁর সহযোগীরা ধারণ করা ভিডিও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ছড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে কিশোরী ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে হেনস্তার শিকার হয়।এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে পলাতক থাকা প্রধান অভিযুক্ত মুসাকে গ্রেপ্তারের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কলাপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-৮।ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিচয় ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার্থে তাঁর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
রাজধানী ঢাকায় চীনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরী।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের (আইডিসিপিসি) মন্ত্রী এবং দেশটির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতা লিউ হাইশিং ঢাকায় পৌঁছালে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী।চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের এ সফরকে বাংলাদেশ ও চীনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সফর দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আশা করা হচ্ছে।অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীর উপস্থিতি পটুয়াখালীর রাজনৈতিক অঙ্গনেও গুরুত্ব বহন করছে। বিশেষ করে জাতীয় রাজনীতিতে দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানানোর এ আয়োজন তাঁর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তবে প্রতিনিধিদলের সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি, বৈঠকের সময়সূচি কিংবা আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্যে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার জুগির হাওলা গ্রামে কৃত্রিম খালের মাধ্যমে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করানোকে কেন্দ্র করে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এতে মিষ্টি পানির সংকটে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ একর কৃষিজমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। বর্ষা মৌসুমে ধান চাষ করতে না পারার পর এবার শীতকালীন ও মৌসুমি তরমুজ চাষ নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তাঁরা। ফলে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে এলাকার কৃষকদের।স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জুগির হাওলা গ্রামের কৃষক মো. সোহেল গাজীর রেকর্ডীয় জমির ওপর দিয়ে একটি কৃত্রিম খাল কেটে দীর্ঘদিন ধরে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করানো হচ্ছে। অভিযোগের তীর স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফোরকান তালুকদার, লিটন তালুকদার ও শানু তালুকদারের বিরুদ্ধে। তাঁদের বিরুদ্ধে ওই খালের পানি ব্যবহার করে মাছ চাষের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ভুক্তভোগী সোহেল গাজীর দাবি, বিগত সরকারের আমলে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁর রেকর্ডীয় জমির মধ্য দিয়ে কৃত্রিম খাল তৈরি করা হয়। এর ফলে জোয়ারের লবণাক্ত পানি আশপাশের কৃষিজমিতে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এতে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কৃষকরা মিষ্টি পানির সংকটে ভুগছেন।তিনি জানান, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজের জমিতে লবণাক্ত পানির প্রবেশ ঠেকাতে খালের অংশে বাঁধ নির্মাণ করেন। পরে সেই বাঁধ কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জোয়ারের পানির চাপে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কথা বলেন। পরবর্তী সময়ে আবার বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিলে তাঁকে বাধা ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন সোহেল গাজী।এদিকে বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে মানববন্ধন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। সোহেল গাজীর অভিযোগ, স্মারকলিপিতে তাঁর রেকর্ডীয় জমিকে খাসজমি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সঠিক নয়। এ নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, খালের মাধ্যমে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করায় প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ একর জমিতে মিষ্টি পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না। ফলে বর্ষা মৌসুমে ধান চাষ ব্যাহত হয়েছে। এখন তরমুজ চাষের মৌসুম শুরু হলেও জমিতে লবণাক্ত পানির প্রভাবে চাষাবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষক ইতোমধ্যে জমি প্রস্তুত ও অন্যান্য কাজে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। সময়মতো চাষ শুরু করতে না পারলে তাঁদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।স্থানীয় কৃষক মো. লিমন মুন্সি বলেন, “বাঁধ না থাকায় বর্ষা মৌসুমে আমরা ধান চাষ করতে পারিনি। এখন তরমুজ চাষের সময়। এ জন্য অনেক কৃষক টাকা লগ্নি করেছেন। কিন্তু জমিতে লবণাক্ত পানি ঢুকে থাকায় মিষ্টি পানির অভাবে চাষাবাদ করা যাচ্ছে না। আমরা চাই, দ্রুত সমস্যার সমাধান করে কৃষকদের ফসল ফলানোর সুযোগ করে দেওয়া হোক।”ভুক্তভোগী সোহেল গাজী বলেন, সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্তের পর তাঁকে নিজের রেকর্ডীয় জমিতে বাঁধ দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন এবং প্রতিপক্ষকে সেখানে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরও বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি নিজের জমি ও আশপাশের কৃষিজমিতে লবণাক্ত পানি প্রবেশ বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান বলেন, “জোয়ার-ভাটার পানি ওঠানামায় বাধা দেওয়া যাবে না। যারা বাঁধ দেওয়ার চেষ্টা করবেন, আমি তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।” এ অবস্থায় জমির মালিকানা, খালের অবস্থান, পানি প্রবাহের বিষয় এবং কৃষকদের চাষাবাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে খালের বিষয়ে আইনগত অবস্থান স্পষ্ট করে কৃষিজমিতে লবণাক্ত পানির অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। দ্রুত সমাধান না হলে আসন্ন তরমুজ মৌসুমে এলাকার বহু কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ৮টা ৩০ মিনিটের দিকে পটুয়াখালী সদর থানাধীন ছোট বিঘাই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাটিভাঙা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, মো. রাসেল সিকদার (৩০) ও মো. জুয়েল (২২)। তারা দুজনই পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোট বিঘাই ইউনিয়নের পশ্চিম মাটিভাঙা এলাকার বাসিন্দা।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী জেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে সদর থানা পুলিশের একটি দল মাটিভাঙা এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তাদের কাছ থেকে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোটবিঘাইয়ে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩০ গ্রাম গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ছোটবিঘাই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাটিভাঙা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, ছোট বিঘাই ইউনিয়ন এর পশ্চিম মাটিভাঙা এলাকার রাসেল সিকদার (৩০) ও জুয়েল (২২)। তাঁরা দুজনই পটুয়াখালী সদর থানার বাসিন্দা।পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় তাঁদের কাছ থেকে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে।মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।