রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিপক্ষকে হেয়প্রতিপন্ন করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ছবি তৈরি এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন শিকদারের সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি বা সম্পাদিত ছবি ব্যবহার করে এই নেতার সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
হাজী হুমায়ুন শিকদার কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর দীর্ঘদিনের পথচলা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ও যোগাযোগ রয়েছে।
সমর্থকদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ছবি বা তথ্য প্রকাশের আগে তার সত্যতা যাচাই করা জরুরি। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কোনো ব্যক্তির ছবি বিকৃত করা, কৃত্রিম ছবি তৈরি করা কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মান ও সামাজিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই যাচাই ছাড়া কোনো ছবি বা অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
তাঁদের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ। তবে মতবিরোধের কারণে কাউকে হেয় করা, মিথ্যা তথ্য প্রচার কিংবা প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অভিযোগের পেছনে কারা জড়িত, আদৌ ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি বা পরিবর্তন করা হয়েছে কি না এবং এগুলোর উদ্দেশ্য কী—তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
হাজী হুমায়ুন শিকদার পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনের রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তাঁর সমর্থকদের প্রত্যাশা, যেকোনো অভিযোগ বা বিতর্কের ক্ষেত্রে আবেগ কিংবা রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা হবে।
প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে তদন্তের দাবি
বর্তমানে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বাস্তবসম্মত ছবি তৈরি ও বিদ্যমান ছবি পরিবর্তন করা সম্ভব। ফলে কোনো ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেটির উৎস, সম্পাদনার ইতিহাস এবং সত্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ছবি দেখে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কিংবা যাচাইহীন অভিযোগ প্রচার করা উচিত নয়।
হাজী হুমায়ুন শিকদারকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ছবি, মূল উৎস এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠতে পারে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন ব্যক্তিগত সম্মানহানি কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের হাতিয়ার না হয়—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহলের। সত্য প্রকাশ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়িত্বশীল আচরণের মধ্য দিয়েই এ ধরনের বিতর্কের গ্রহণযোগ্য সমাধান সম্ভব।
সম্পাদনাগত সতর্কতা: এআই দিয়ে ছবি তৈরি করে কাউকে ফাঁসানোর অভিযোগটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তাই সংশ্লিষ্ট ছবি, মূল পোস্ট, অভিযোগকারীর বক্তব্য এবং অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আরও তথ্যসমৃদ্ধ ও নির্ভুলভাবে প্রকাশ করা যাবে।
মতামত