ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
পটুয়াখালী টুডে

বাঁশবাড়িয়ায় তেঁতুলিয়া নদীর নতুন ভাঙন, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ



বাঁশবাড়িয়ায় তেঁতুলিয়া নদীর নতুন ভাঙন, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ
বাঁশবাড়িয়ায় তেঁতুলিয়া নদীর নতুন ভাঙন, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

পটুয়াখালীর বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঢনঢনিয়া এলাকায় নতুন করে তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে। হঠাৎ করে নদীর তীর ভাঙতে শুরু করায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। ভাঙন অব্যাহত থাকলে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের ভাষ্য, তেঁতুলিয়া নদীর প্রবল স্রোত ও নদীর তীরের মাটি ধসে পড়ার কারণে ঢনঢনিয়া এলাকায় নতুন করে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে নদীর তীরের কিছু অংশ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে। নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

নদীভাঙন উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা। নদীর তীরের ভাঙন ধীরে ধীরে বিস্তৃত হলে একদিকে যেমন বসতভিটা হারানোর আশঙ্কা থাকে, অন্যদিকে স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়ে। বিশেষ করে বর্ষা ও নদীতে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার সময় ভাঙনের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী বলছেন, ভাঙন শুরু হওয়ার পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। কিন্তু ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেরি হলে নদীর তীরের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। তাই ভাঙনপ্রবণ স্থানটি দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের মতে, নদীর তীর রক্ষায় স্থায়ী ও টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। শুধু সাময়িকভাবে মাটি বা বালু ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পরিবর্তে নদীর গতিপ্রকৃতি ও তীরের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এতে নদীপাড়ের মানুষের বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করা সম্ভব হবে।

নদীভাঙনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন তীরবর্তী বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ করা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে রাতের বেলায় আকস্মিকভাবে তীর ধসে পড়লে স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

এ অবস্থায় ঢনঢনিয়া এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর নতুন ভাঙন সরেজমিনে পরিদর্শন করে ভাঙনের কারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে নদীর তীর রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ভাঙন আরও বিস্তৃত হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এতে নদীপাড়ের মানুষের বসতভিটা ও সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও কমানো সম্ভব হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

পটুয়াখালী টুডে

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


বাঁশবাড়িয়ায় তেঁতুলিয়া নদীর নতুন ভাঙন, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালীর বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঢনঢনিয়া এলাকায় নতুন করে তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে। হঠাৎ করে নদীর তীর ভাঙতে শুরু করায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। ভাঙন অব্যাহত থাকলে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।


স্থানীয়দের ভাষ্য, তেঁতুলিয়া নদীর প্রবল স্রোত ও নদীর তীরের মাটি ধসে পড়ার কারণে ঢনঢনিয়া এলাকায় নতুন করে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে নদীর তীরের কিছু অংশ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে। নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।


নদীভাঙন উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা। নদীর তীরের ভাঙন ধীরে ধীরে বিস্তৃত হলে একদিকে যেমন বসতভিটা হারানোর আশঙ্কা থাকে, অন্যদিকে স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়ে। বিশেষ করে বর্ষা ও নদীতে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার সময় ভাঙনের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


এলাকাবাসী বলছেন, ভাঙন শুরু হওয়ার পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। কিন্তু ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেরি হলে নদীর তীরের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। তাই ভাঙনপ্রবণ স্থানটি দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।


স্থানীয়দের মতে, নদীর তীর রক্ষায় স্থায়ী ও টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। শুধু সাময়িকভাবে মাটি বা বালু ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পরিবর্তে নদীর গতিপ্রকৃতি ও তীরের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এতে নদীপাড়ের মানুষের বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করা সম্ভব হবে।


নদীভাঙনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন তীরবর্তী বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ করা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে রাতের বেলায় আকস্মিকভাবে তীর ধসে পড়লে স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।


এ অবস্থায় ঢনঢনিয়া এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর নতুন ভাঙন সরেজমিনে পরিদর্শন করে ভাঙনের কারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে নদীর তীর রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ভাঙন আরও বিস্তৃত হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এতে নদীপাড়ের মানুষের বসতভিটা ও সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও কমানো সম্ভব হবে।


পটুয়াখালী টুডে

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান: মোঃ আতিকুল ইসলাম
ভাইস চেয়ারম্যান: মোঃ জাকারিয়া হোসেন
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুর রহিম মেহেদী
বার্তা সম্পাদক: মোঃ মাসুদ খান

কপিরাইট © ২০২৬ পটুয়াখালী টুডে । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
বাঁশবাড়িয়ায় তেঁতুলিয়া নদীর নতুন ভাঙন, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ
0:00 0:00
1.0x