ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
পটুয়াখালী টুডে

বাউফলে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আদায় ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ



বাউফলে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আদায় ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ
বাউফলে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আদায় ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আদায় এবং শিক্ষক বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকদের ছুটি অনুমোদন, টাইম স্কেল ও অডিটের খরচের নামে অর্থ আদায়, স্লিপ প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে উৎকোচ গ্রহণ এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক বদলির মতো অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ নেওয়ার একটি চর্চা তৈরি হয়েছে। এতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নানা ধরনের হয়রানি ও আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি বাউফল উপজেলার ২৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তবর্ণের চার্ট (১৭ আইটেম) সরবরাহের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি বিদ্যালয়ের কাছ থেকে ওই চার্টের জন্য ১ হাজার ৭০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় বাজারদর অনুযায়ী একই ধরনের চার্টের মূল্য প্রায় ৭০০ টাকা বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

অভিযোগ অনুযায়ী, বাজারমূল্যের তুলনায় প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে অতিরিক্ত ১ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়ে থাকলে ২৩৮টি বিদ্যালয় থেকে অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। তবে এ অর্থ কে বা কার নির্দেশে নেওয়া হয়েছে, এর কোনো বৈধ হিসাব বা সরকারি অনুমোদন রয়েছে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক ও স্থানীয়রা।

এ ছাড়া স্লিপ প্রকল্পের বরাদ্দ, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সরকারি অর্থের ব্যবস্থাপনায়ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্পের অর্থ ছাড় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষকদের বদলি নিয়েও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের নির্ধারিত নীতিমালা ও নির্দেশনা থাকলেও তা উপেক্ষা করে অর্থের বিনিময়ে বদলির সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে যোগ্যতা ও প্রশাসনিক প্রয়োজনের পরিবর্তে আর্থিক লেনদেনকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া শিক্ষকদের ছুটি অনুমোদন, টাইম স্কেল সংক্রান্ত কাজ এবং অডিট কার্যক্রমকে কেন্দ্র করেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের ভাষ্য, এসব কাজের জন্য নির্ধারিত সরকারি ফি বা বিধিবদ্ধ ব্যয়ের বাইরে অর্থ দিতে হয়। কেউ অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার প্রশাসনিক কাজে বিলম্ব বা নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, শিক্ষা অফিসের সঙ্গে নিয়মিত প্রশাসনিক কাজে যোগাযোগ করতে গিয়ে তাদের বিভিন্ন ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে চাকরির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতে প্রশাসনিক হয়রানির আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চান না।

অভিযোগকারীরা এসব বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ, বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক সরবরাহের আর্থিক হিসাব নিরীক্ষার আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আখতার হোসেনের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

পটুয়াখালী টুডে

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


বাউফলে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আদায় ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আদায় এবং শিক্ষক বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকদের ছুটি অনুমোদন, টাইম স্কেল ও অডিটের খরচের নামে অর্থ আদায়, স্লিপ প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে উৎকোচ গ্রহণ এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক বদলির মতো অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।


স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ নেওয়ার একটি চর্চা তৈরি হয়েছে। এতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নানা ধরনের হয়রানি ও আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


সম্প্রতি বাউফল উপজেলার ২৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তবর্ণের চার্ট (১৭ আইটেম) সরবরাহের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি বিদ্যালয়ের কাছ থেকে ওই চার্টের জন্য ১ হাজার ৭০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় বাজারদর অনুযায়ী একই ধরনের চার্টের মূল্য প্রায় ৭০০ টাকা বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।


অভিযোগ অনুযায়ী, বাজারমূল্যের তুলনায় প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে অতিরিক্ত ১ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়ে থাকলে ২৩৮টি বিদ্যালয় থেকে অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। তবে এ অর্থ কে বা কার নির্দেশে নেওয়া হয়েছে, এর কোনো বৈধ হিসাব বা সরকারি অনুমোদন রয়েছে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক ও স্থানীয়রা।


এ ছাড়া স্লিপ প্রকল্পের বরাদ্দ, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সরকারি অর্থের ব্যবস্থাপনায়ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্পের অর্থ ছাড় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


শিক্ষকদের বদলি নিয়েও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের নির্ধারিত নীতিমালা ও নির্দেশনা থাকলেও তা উপেক্ষা করে অর্থের বিনিময়ে বদলির সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে যোগ্যতা ও প্রশাসনিক প্রয়োজনের পরিবর্তে আর্থিক লেনদেনকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।


এ ছাড়া শিক্ষকদের ছুটি অনুমোদন, টাইম স্কেল সংক্রান্ত কাজ এবং অডিট কার্যক্রমকে কেন্দ্র করেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের ভাষ্য, এসব কাজের জন্য নির্ধারিত সরকারি ফি বা বিধিবদ্ধ ব্যয়ের বাইরে অর্থ দিতে হয়। কেউ অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার প্রশাসনিক কাজে বিলম্ব বা নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, শিক্ষা অফিসের সঙ্গে নিয়মিত প্রশাসনিক কাজে যোগাযোগ করতে গিয়ে তাদের বিভিন্ন ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে চাকরির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতে প্রশাসনিক হয়রানির আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চান না।


অভিযোগকারীরা এসব বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ, বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক সরবরাহের আর্থিক হিসাব নিরীক্ষার আওতায় আনার দাবি উঠেছে।


তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আখতার হোসেনের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।


পটুয়াখালী টুডে

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান: মোঃ আতিকুল ইসলাম
ভাইস চেয়ারম্যান: মোঃ জাকারিয়া হোসেন
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুর রহিম মেহেদী
বার্তা সম্পাদক: মোঃ মাসুদ খান

কপিরাইট © ২০২৬ পটুয়াখালী টুডে । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
বাউফলে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আদায় ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ
0:00 0:00
1.0x