বাউফলে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন; হুমকির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেও অন্য মামলায় আদালতে পাঠানোর দাবি
বিএনপি নেতা ফরিদ গাজীকে দলের সদস্য করার ক্ষেত্রে যারা সুপারিশ করেছিলেন, তাঁদেরও সাংগঠনিক জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ দাবি জানান।
স্ট্যাটাসে আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ দাবি করেন, ফরিদ গাজীর কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তাঁকে বিএনপির সদস্য করার প্রক্রিয়ায় যারা সুপারিশ করেছেন, তাঁদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একজন ব্যক্তিকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার আগে তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক ভূমিকা যাচাই করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এদিকে ছাত্রদল সভাপতির এ বক্তব্যের পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর পোস্টের মন্তব্য ঘরেও বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কয়েকজন মন্তব্যকারী ফরিদ গাজীকে দলে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কেউ কেউ ফরিদ গাজীর বিরুদ্ধে অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কীভাবে সদস্য হলেন ফরিদ গাজী
ফরিদ গাজী কীভাবে উপজেলা বিএনপির সদস্য হয়েছিলেন, সে বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ।
তিনি জানান, ২০২১ সালে ৩৬ সদস্যের বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির কাউন্সিলের আগে আরও ২০ জনকে ওই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাঁর দাবি, মূল ৩৬ সদস্যের তালিকায় ফরিদ গাজীর নাম ছিল না; পরবর্তী সময়ে যুক্ত করা সদস্যদের তালিকায় তাঁর নাম আসে।
আপেল মাহমুদ ফিরোজ আরও জানান, ব্যবসায়ী গোবিন্দ মন্ডলকে পুড়িয়ে মারার হুমকির অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জেলা বিএনপিকে জানানো হয়। পরে ফরিদ গাজীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীকে হুমকির অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাউফল সদর ইউনিয়নের বিলবিলাস বাজার এলাকার বাসিন্দা গৌরাঙ্গ চন্দ্র মণ্ডলের ছেলে গোবিন্দ মন্ডল ঢাকায় ভূমি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
গোবিন্দ মন্ডলের অভিযোগ, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁর প্রচারণার পোস্টার-ফেস্টুন লাগানো নিয়ে ফরিদ গাজী তাঁর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মুঠোফোনে ভয়ভীতি ও জীবিত পুড়িয়ে মারার হুমকি দেওয়া হয়।
তবে ১৭ সেপ্টেম্বর বাউফল থানায় করা সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির বিষয়টি উল্লেখ নেই বলে জানা গেছে। সেখানে পোস্টার-ফেস্টুন লাগানোকে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অডিও
গোবিন্দ মন্ডলের দাবি, ফরিদ গাজীর সঙ্গে তাঁর মুঠোফোনে কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড রয়েছে। প্রায় ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের ওই অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।
বিভিন্ন গণমাধ্যমেও অডিওটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে অডিওটির সত্যতা, কণ্ঠস্বর এবং কথোপকথনের প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর অভিযোগ
গোবিন্দ মন্ডলকে হুমকির অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি মামলা না করে জিডি নেওয়া এবং পরে ফরিদ গাজীকে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোবিন্দ মন্ডলকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ফরিদ গাজীকে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, “ফরিদ গাজী কী করেছেন, সেটি তদন্ত ও সাংগঠনিকভাবে দেখার বিষয়। তবে তাঁকে বিএনপির সদস্য করার প্রক্রিয়ায় যারা সুপারিশ করেছেন, তাঁদের ভূমিকা নিয়েও জবাবদিহি হওয়া প্রয়োজন।”
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা এবং ফরিদ গাজীকে দলের সদস্য করার প্রক্রিয়ায় কারা কী ভূমিকা রেখেছেন—তা তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক নথিপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মতামত