দুমকীতে পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে পুলিশের হাতে সোপর্দ; তদন্তের দাবি সমর্থকদের
পটুয়াখালীর দুমকীতে এক নারীর বসতঘরের পাশ থেকে পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম ওরফে বারেক মেম্বারকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করার অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয়রা তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় তাঁকে মারধর ও রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তাঁর সমর্থকরা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পাঙ্গাশিয়া মাদ্রাসা ও ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও বারেক মেম্বারের সমর্থকরা অংশ নেন।
‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফাঁসানোর চেষ্টা’
মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, বারেক মেম্বারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আড়ালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হেনস্তা ও মানহানি করার পাশাপাশি শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে।
বক্তারা ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে বারেক মেম্বারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তাঁর মুক্তির দাবিও করেন তাঁরা।
গভীর রাতে আটক
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগে গভীর রাতে এক নারীর বসতঘরের পেছনে বারেক মেম্বারকে দেখতে পান স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের দাবি, ওই সময় তাঁকে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে আটক করেন।
আটকের সময় তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে স্থানীয়দের কাছ থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
তবে ওই নারীর সঙ্গে বারেক মেম্বারের সম্পর্ক কী এবং তিনি সেখানে কী কারণে গিয়েছিলেন—এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পুলিশের
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাৎক্ষণিকভাবে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে বারেক মেম্বারের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট নারীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের ওপরই এখন নির্ভর করছে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন।
মতামত