ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
পটুয়াখালী টুডে

চিকিৎসাবিহীন আর কত প্রাণ ঝরলে শেষ হবে হাসপাতালের নির্মাণকাজ?



চিকিৎসাবিহীন আর কত প্রাণ ঝরলে শেষ হবে হাসপাতালের নির্মাণকাজ?
চিকিৎসাবিহীন আর কত প্রাণ ঝরলে শেষ হবে হাসপাতালের নির্মাণকাজ?

দুই লক্ষাধিক মানুষের ভরসা নৌপথ; ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে থমকে আছে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

তিনদিকে নদী, একদিকে বঙ্গোপসাগর—প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী। তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালে রয়েছে দীর্ঘদিনের এক গভীর বঞ্চনা। দেশের একমাত্র উপজেলা হিসেবে রাঙ্গাবালীতে নেই কোনো পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল। ফলে দুই লক্ষাধিক মানুষ বছরের পর বছর মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।

হাসপাতাল নির্মাণের দাবিতে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ, মানববন্ধন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রায় ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।

এখন নতুন করে টেন্ডার হওয়ার কথা জানালেও কবে নাগাদ হাসপাতালটি পুরোপুরি চালু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এরই মধ্যে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দুর্গম এই দ্বীপ উপজেলার মানুষ।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—চিকিৎসাবিহীন আর কত প্রাণ ঝরলে শেষ হবে হাসপাতালের নির্মাণকাজ?

নৌপথই যখন চিকিৎসার একমাত্র ভরসা

রাঙ্গাবালী ভৌগোলিকভাবে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। চারপাশে নদ-নদী ও বঙ্গোপসাগর থাকায় এখানকার মানুষের যাতায়াত মূলত নৌপথনির্ভর। উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা থেকে পটুয়াখালী শহরসহ অন্যত্র যেতে হলে রোগীদের পাড়ি দিতে হয় ভয়াল আগুনমুখা নদী।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্বাভাবিক সময়ে নৌযানে যাতায়াত সম্ভব হলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কিংবা নদী উত্তাল থাকলে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তখন জরুরি রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের নিয়ে পরিবারের সদস্যদের পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে। নৌপথে হাসপাতালে নেওয়ার পথে রোগীর মৃত্যু, প্রসূতির জটিলতা ও গর্ভপাতের মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

প্রাথমিক চিকিৎসাতেই সীমাবদ্ধ স্বাস্থ্যসেবা

রাঙ্গাবালী উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে চারটিতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, একটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ১২টি ওয়ার্ডে কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে জ্বর, সর্দি-কাশিসহ সাধারণ রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও গুরুতর রোগের চিকিৎসা বা জরুরি সেবা দেওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত চিকিৎসকও নেই। ফলে জটিল রোগীদের শেষ পর্যন্ত উপজেলা বা জেলা শহরে পাঠাতে হয়।

দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, অর্থনৈতিক সংকট এবং নৌপথের অনিশ্চয়তার কারণে অনেক রোগী সময়মতো উন্নত চিকিৎসা নিতে পারেন না। এতে অনেক ক্ষেত্রে ওঝা, কবিরাজ ও পল্লিচিকিৎসকদের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন মানুষ।

বাবাকে হারিয়ে আক্ষেপ তানভীরের

রাঙ্গাবালীর বাসিন্দা তানভীর হাওলাদার বলেন, তাঁর বাবার মৃত্যুর আগে শারীরিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি হয়েছিল। কিন্তু এলাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় এবং দূরত্ব ও যাতায়াতের বাস্তবতায় তাঁকে যথাসময়ে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তানভীর বলেন, “সময়মতো চিকিৎসা পেলে আমার বাবা বেঁচে থাকতেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না। তবে একজন সন্তান হিসেবে আমার মনে সবসময় একটি প্রশ্ন থাকবে—আমাদের এলাকায় যদি একটি ভালো হাসপাতাল থাকত, তাহলে হয়তো সংকটময় মুহূর্তে বাবাকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হতো। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পেলে হয়তো তাঁকে আরও কিছুদিন আমাদের মাঝে রাখা সম্ভব হতো।”

তিনি রাঙ্গাবালীতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হাসপাতাল চালু এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান।

‘প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া কিছু করার থাকে না’

রাঙ্গাবালীর পল্লিচিকিৎসক ইমরান মাহমুদ বলেন, “রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া ছাড়া এখানে অনেক সময় আমাদের কিছুই করার থাকে না। উন্নত চিকিৎসার জন্য শহরে যেতে বললে অর্থনৈতিক সমস্যা ও দূরত্বের কারণে অনেকেই যেতে পারেন না।”

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসার সীমাবদ্ধতার কারণে রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে। তাঁর দাবি, ভুল চিকিৎসার কারণেও বিভিন্ন সময় রোগীর শারীরিক জটিলতা বেড়েছে। কয়েকদিন আগেও ভুল চিকিৎসার পর একজন রোগীর পা কেটে ফেলতে হয়েছে বলে তিনি জানান।

৫৫ শতাংশ কাজ শেষ, এরপর থেমে যায়

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাঙ্গাবালীতে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নির্মাণকাজ শুরুর পর হাসপাতাল ভবনের প্রায় ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে বরাদ্দসংক্রান্ত জটিলতায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘ সময় ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, শুধু ভবন নির্মাণ করলেই হবে না—হাসপাতালটি দ্রুত চালু করে চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবস্থা করতে হবে।

দ্রুত কাজ শুরুর আশ্বাস প্রশাসনের

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান বলেন, বরাদ্দ না পাওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। হাসপাতালের বাকি কাজ শেষ করার জন্য নতুন করে টেন্ডার করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা সংসদ সদস্যের

পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, রাঙ্গাবালীর নির্মাণাধীন ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দ্রুত শেষ করার জন্য টেন্ডার হয়েছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে।

তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি উপজেলায় ১৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় রাঙ্গাবালী হাসপাতালকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কারণ, এখানে কোনো পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল নেই। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কেও অবহিত করা হয়েছে।”

দ্বীপ উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এখন একটাই—আর প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত শেষ হোক নির্মাণাধীন হাসপাতালের কাজ। দুর্গম জনপদের মানুষ যেন জরুরি চিকিৎসার জন্য উত্তাল নদী পাড়ি দিয়ে জীবন ঝুঁকিতে না ফেলেন, সেই ব্যবস্থা দ্রুত নিশ্চিত করার দাবি তাঁদের।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

পটুয়াখালী টুডে

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


চিকিৎসাবিহীন আর কত প্রাণ ঝরলে শেষ হবে হাসপাতালের নির্মাণকাজ?

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দুই লক্ষাধিক মানুষের ভরসা নৌপথ; ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে থমকে আছে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

তিনদিকে নদী, একদিকে বঙ্গোপসাগর—প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী। তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালে রয়েছে দীর্ঘদিনের এক গভীর বঞ্চনা। দেশের একমাত্র উপজেলা হিসেবে রাঙ্গাবালীতে নেই কোনো পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল। ফলে দুই লক্ষাধিক মানুষ বছরের পর বছর মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।


হাসপাতাল নির্মাণের দাবিতে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ, মানববন্ধন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রায় ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।


এখন নতুন করে টেন্ডার হওয়ার কথা জানালেও কবে নাগাদ হাসপাতালটি পুরোপুরি চালু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এরই মধ্যে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দুর্গম এই দ্বীপ উপজেলার মানুষ।


স্থানীয়দের প্রশ্ন—চিকিৎসাবিহীন আর কত প্রাণ ঝরলে শেষ হবে হাসপাতালের নির্মাণকাজ?


নৌপথই যখন চিকিৎসার একমাত্র ভরসা


রাঙ্গাবালী ভৌগোলিকভাবে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। চারপাশে নদ-নদী ও বঙ্গোপসাগর থাকায় এখানকার মানুষের যাতায়াত মূলত নৌপথনির্ভর। উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা থেকে পটুয়াখালী শহরসহ অন্যত্র যেতে হলে রোগীদের পাড়ি দিতে হয় ভয়াল আগুনমুখা নদী।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্বাভাবিক সময়ে নৌযানে যাতায়াত সম্ভব হলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কিংবা নদী উত্তাল থাকলে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তখন জরুরি রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।


বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের নিয়ে পরিবারের সদস্যদের পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে। নৌপথে হাসপাতালে নেওয়ার পথে রোগীর মৃত্যু, প্রসূতির জটিলতা ও গর্ভপাতের মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।


প্রাথমিক চিকিৎসাতেই সীমাবদ্ধ স্বাস্থ্যসেবা


রাঙ্গাবালী উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে চারটিতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, একটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ১২টি ওয়ার্ডে কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে জ্বর, সর্দি-কাশিসহ সাধারণ রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও গুরুতর রোগের চিকিৎসা বা জরুরি সেবা দেওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।


স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত চিকিৎসকও নেই। ফলে জটিল রোগীদের শেষ পর্যন্ত উপজেলা বা জেলা শহরে পাঠাতে হয়।


দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, অর্থনৈতিক সংকট এবং নৌপথের অনিশ্চয়তার কারণে অনেক রোগী সময়মতো উন্নত চিকিৎসা নিতে পারেন না। এতে অনেক ক্ষেত্রে ওঝা, কবিরাজ ও পল্লিচিকিৎসকদের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন মানুষ।


বাবাকে হারিয়ে আক্ষেপ তানভীরের


রাঙ্গাবালীর বাসিন্দা তানভীর হাওলাদার বলেন, তাঁর বাবার মৃত্যুর আগে শারীরিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি হয়েছিল। কিন্তু এলাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় এবং দূরত্ব ও যাতায়াতের বাস্তবতায় তাঁকে যথাসময়ে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া সম্ভব হয়নি।


তানভীর বলেন, “সময়মতো চিকিৎসা পেলে আমার বাবা বেঁচে থাকতেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না। তবে একজন সন্তান হিসেবে আমার মনে সবসময় একটি প্রশ্ন থাকবে—আমাদের এলাকায় যদি একটি ভালো হাসপাতাল থাকত, তাহলে হয়তো সংকটময় মুহূর্তে বাবাকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হতো। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পেলে হয়তো তাঁকে আরও কিছুদিন আমাদের মাঝে রাখা সম্ভব হতো।”


তিনি রাঙ্গাবালীতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হাসপাতাল চালু এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান।


‘প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া কিছু করার থাকে না’


রাঙ্গাবালীর পল্লিচিকিৎসক ইমরান মাহমুদ বলেন, “রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া ছাড়া এখানে অনেক সময় আমাদের কিছুই করার থাকে না। উন্নত চিকিৎসার জন্য শহরে যেতে বললে অর্থনৈতিক সমস্যা ও দূরত্বের কারণে অনেকেই যেতে পারেন না।”


তিনি আরও বলেন, চিকিৎসার সীমাবদ্ধতার কারণে রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে। তাঁর দাবি, ভুল চিকিৎসার কারণেও বিভিন্ন সময় রোগীর শারীরিক জটিলতা বেড়েছে। কয়েকদিন আগেও ভুল চিকিৎসার পর একজন রোগীর পা কেটে ফেলতে হয়েছে বলে তিনি জানান।


৫৫ শতাংশ কাজ শেষ, এরপর থেমে যায়


উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাঙ্গাবালীতে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নির্মাণকাজ শুরুর পর হাসপাতাল ভবনের প্রায় ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে বরাদ্দসংক্রান্ত জটিলতায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়।


দীর্ঘ সময় ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, শুধু ভবন নির্মাণ করলেই হবে না—হাসপাতালটি দ্রুত চালু করে চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবস্থা করতে হবে।


দ্রুত কাজ শুরুর আশ্বাস প্রশাসনের


রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান বলেন, বরাদ্দ না পাওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। হাসপাতালের বাকি কাজ শেষ করার জন্য নতুন করে টেন্ডার করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।


অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা সংসদ সদস্যের


পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, রাঙ্গাবালীর নির্মাণাধীন ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দ্রুত শেষ করার জন্য টেন্ডার হয়েছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে।


তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি উপজেলায় ১৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় রাঙ্গাবালী হাসপাতালকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কারণ, এখানে কোনো পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল নেই। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কেও অবহিত করা হয়েছে।”


দ্বীপ উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এখন একটাই—আর প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত শেষ হোক নির্মাণাধীন হাসপাতালের কাজ। দুর্গম জনপদের মানুষ যেন জরুরি চিকিৎসার জন্য উত্তাল নদী পাড়ি দিয়ে জীবন ঝুঁকিতে না ফেলেন, সেই ব্যবস্থা দ্রুত নিশ্চিত করার দাবি তাঁদের।


পটুয়াখালী টুডে

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান: মোঃ আতিকুল ইসলাম
ভাইস চেয়ারম্যান: মোঃ জাকারিয়া হোসেন
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুর রহিম মেহেদী
বার্তা সম্পাদক: মোঃ মাসুদ খান

কপিরাইট © ২০২৬ পটুয়াখালী টুডে । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
চিকিৎসাবিহীন আর কত প্রাণ ঝরলে শেষ হবে হাসপাতালের নির্মাণকাজ?
0:00 0:00
1.0x