পটুয়াখালীর দশমিনায় গরু চুরির অভিযোগে দুইজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। শনিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বগুড়া গ্রামের মাস্টার বাড়ির সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
আটক দুজন হলেন—দশমিনা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের লিটু মিয়ার ছেলে শাকিল এবং একই এলাকার মৃত খালেক গাজীর ছেলে মনির।
স্থানীয়রা জানান, বগুড়া গ্রামের দলিল উদ্দিন মাস্টারের গোয়ালঘর থেকে একটি গরু বের করে মিশুক গাড়িতে তোলার সময় কয়েকজনকে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে গরুটির মালিকানা ও তাদের পরিচয় জানতে চান। এ সময় তিনজনের মধ্যে একজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা শাকিল ও মনিরকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে দশমিনা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মমিন মাস্টার বলেন, এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে গরু চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সন্দেহজনক যানবাহন ও অপরিচিত ব্যক্তিদের বিষয়ে স্থানীয়রা সতর্ক রয়েছেন। শনিবার রাতে বাড়ি ফেরার সময় তিনি বাড়ির সামনে একটি মিশুক গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সন্দেহ করেন। পরে কয়েকজনকে খবর দিয়ে তিনি আড়ালে অবস্থান নেন। কিছুক্ষণ পর তিনজন ব্যক্তি একটি বাড়ি থেকে গরু এনে মিশুক গাড়িতে তোলার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাদের আটক করার উদ্যোগ নেন। এ সময় দুজন ধরা পড়লেও একজন পালিয়ে যায়।
মমিন মাস্টার আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে যাদের নাম এসেছে, তাদেরও দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।
আটক শাকিলের দাবি, তিনি দশমিনা সদর এলাকার পূজাখোলা এলাকায় একটি চায়ের দোকানে ছিলেন। এ সময় জাহাঙ্গীর, রিপন, সাগর ও মনির তাকে একটি গরু আনতে যাওয়ার কথা বলেন। পরে তিনি মিশুক নিয়ে তাদের সঙ্গে বহরমপুর ইউনিয়নের বগুড়া গ্রামে যান। গরুটির মালিক কে, সে বিষয়ে তিনি জানতেন না বলে দাবি করেন শাকিল। স্থানীয়রা তাদের আটক করার সময় জাহাঙ্গীর, রিপন ও সাগর পালিয়ে যান বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে আটক মনির বলেন, তিনি মাছের ব্যবসা করেন। প্রতিবেশী জাহাঙ্গীরের কথায় গরু আনতে শাকিলের মিশুক গাড়িতে করে বগুড়া গ্রামে যান। সেখানে জাহাঙ্গীর, সাগর ও রিপন একটি বাড়ির গোয়ালঘর থেকে গরু এনে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাদের আটক করেন। পরে জাহাঙ্গীর, সাগর ও রিপন পালিয়ে যান বলে দাবি করেন মনির।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক দুইজনকে থানায় নিয়ে এসেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মতামত