পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেছেন, খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলে। মাঠের এই অভিজ্ঞতাই তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে সফল নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করবে।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি কনফারেন্স কক্ষে ‘A Year of Sports, Speed and Success—Annual Sports Celebration, Prize Giving and Closing Ceremony’ শীর্ষক বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান। ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম সাইফুল ইসলাম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান এবং রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেন।
স্বাগত বক্তব্য দেন শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক ড. আমিনুল ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য দেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান, ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রাতুল এবং সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জনিসহ অন্যরা।
খেলাধুলা শিক্ষারই অংশ
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, গত এক বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাবরেটরির পাশাপাশি খেলার মাঠেও নিজেদের মেধা, গতি ও দৃঢ় সংকল্পের পরিচয় দিয়েছে। শিক্ষা শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের মেধা, মনন ও শারীরিক সক্ষমতার সমন্বিত বিকাশই প্রকৃত শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি বলেন, খেলাধুলা শুধু শরীরচর্চার একটি মাধ্যম নয়; এটি জীবন গঠনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাক্ষেত্র। মাঠের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা ও ধৈর্য শেখানোর পাশাপাশি প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা তৈরি করে। একই সঙ্গে খেলাধুলার মধ্য দিয়ে দলগতভাবে কাজ করার গুরুত্বও উপলব্ধি করা যায়।
উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের গতি ও সাফল্য কেবল খেলার মাঠে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মাঠে অর্জিত শৃঙ্খলা এবং প্রতিকূলতার কাছে হার না মানার মানসিকতা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে সফল নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনে সহায়তা করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
শিক্ষার্থীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, তারাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ এবং দেশের ভবিষ্যৎ। বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি খেলাধুলার উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের প্রতিভা ও সক্ষমতার মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল করতে পারে, সেটিই প্রত্যাশা।
বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার
অনুষ্ঠানের পর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান এবং বিশেষ অতিথিরা।
পরে আলোরতরী সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শেষে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপনী ঘোষণা করা হয়।
এ সময় অন্যদের মধ্যে নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর মো. মাহফুজুর রহমান সবুজ, চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মিজানুর রহমান, জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. হাচিব মোহাম্মদ তুষার, উপাচার্যের একান্ত সচিব মো. আরিফুর রহমান নোমান, ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ আল মামুন, মো. শাহজালাল, খায়রুল বাশার মিয়া, শংকর কুমার সরকার, সহকারী রেজিস্ট্রার রিয়াজ কাঞ্চন ও শাহাদাৎ হোসেনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব রয়েছে। এ কারণে ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
মতামত