পটুয়াখালীর দুমকিতে উপজেলা যুবদলের নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দলের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নবগঠিত কমিটির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে দুমকি উপজেলা পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পুলিশের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে সরে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি দুমকি উপজেলা যুবদলের নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তাদের অভিযোগ, নতুন কমিটিতে দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।
এ নিয়ে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। এর মধ্যে ঝাড়ু মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশও রয়েছে। অন্যদিকে নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতাকর্মীদের সমর্থনে পৃথকভাবে আনন্দ মিছিল বের করা হয়।
শুক্রবার বিকেলে নবগঠিত কমিটির নেতাকর্মীরা কেন্দ্রঘোষিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল বের করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে হামলা ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হামলায় সৈয়দ রিয়াদ (৩১), সাকিল জোমাদ্দার (২৭), আব্দুল ওহাব (৩২)সহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নবগঠিত উপজেলা যুবদলের সভাপতি জাকির আলম মিলন অভিযোগ করে বলেন, কেন্দ্রঘোষিত কমিটির পক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা মিছিলে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের একটি অংশ অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
অন্যদিকে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা অনেক নেতাকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি করা হয়েছে। এ কারণে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে পদবঞ্চিত পক্ষের কোনো নেতার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন বলেন, সম্প্রতি উপজেলা যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটি নিয়ে একই এলাকায় দুই পক্ষ পৃথক কর্মসূচি দেওয়ায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, কমিটি নিয়ে বিরোধ দ্রুত নিরসন না হলে দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ আরও জটিল হতে পারে। এ অবস্থায় কেন্দ্র ও জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের হস্তক্ষেপে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান চান তারা।
মতামত