সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওয়াজ মাহফিলের পরিচিত ইসলামি বক্তা এবং ‘৩১৩ প্রোপার্টিজ’-এর চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আগের একাধিক বিয়ের তথ্য গোপন, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং যৌতুক দাবির অভিযোগ এনেছেন তার পঞ্চম স্ত্রী মোসা. হুমায়রা জান্নাত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের ৮ নম্বর আদালতে মামলাটি (যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারা) দায়ের করা হয়।
মামলাটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দিয়েছেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম।
সম্পর্ক, গোপন বিয়ে ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
মামলার নালিশি আরজির সূত্রে জানা যায়,
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওয়াজ মাহফিলে ধর্মীয় আলোচনার সূত্রে মিসবাহর সঙ্গে পরিচয় হয় হুমায়রা জান্নাতের। পরবর্তীতে ফেসবুকে যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে হুমায়রাকে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে নিজের বাসায় নিয়ে যান মিসবাহ এবং সেখানে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ৪ মে শরিয়াহ মতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং এই দম্পতির ‘আফরাদ মিসবাহ’ নামের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, বিয়ের সময় মিসবাহ তার পূর্বের চারটি বিয়ের তথ্য সম্পূর্ণ গোপন রেখেছিলেন। পরবর্তীতে হুমায়রা জানতে পারেন, তিনি ছাড়াও মিসবাহ মোট ৯টি বিয়ে করেছেন এবং এসব বিয়ের কোনোটিরই কাবিননামা বা সরকারি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়নি। একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ও সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম ইবরাহিম খলিল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ধর্মীয় বক্তা হিসেবে প্রাপ্ত পরিচিতি ও অর্থকে কাজে লাগিয়ে তিনি নারীদের আকৃষ্ট করতেন এবং প্রতারণামূলক সম্পর্ক তৈরি করতেন।
তিনি জানান, প্রাথমিক অভিযোগ নিয়ে হুমায়রা জান্নাত প্রথমে যাত্রাবাড়ী থানায় গিয়েছিলেন। তবে থানা পুলিশ তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দিলে তিনি সিএমএম আদালতে নালিশি মামলা করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামির প্রতি সমন জারি করেছেন। আসামি আদালতে হাজির হওয়ার পর বিস্তারিত আইনগত পদক্ষেপ ও পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হবে।
মতামত