পটুয়াখালীর বাউফলে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক কিশোর ব্যবসায়ীকে মারধর করে তাঁর কাছে থাকা ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত কিশোরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের শিকার কিশোরের নাম মো. আমিনুল ইসলাম (১৭)। তিনি বাউফল ইউনিয়নের পূর্ব জৌতা গ্রামের মো. হালিম হাওলাদারের ছেলে। কালাইয়া বন্দরে গুড়ের ব্যবসা করেন তিনি।
অভিযুক্তরা হলেন মো. ইয়াছিন হাওলাদার (২২) ও তাঁর সহযোগী সোহান (২৩)। ইয়াছিন হাওলাদার বাউফল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি বলে জানা গেছে।
চাঁদা না দেওয়ায় হামলার অভিযোগ
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ইয়াছিন হাওলাদার ও সোহান বেশ কিছুদিন ধরে আমিনুলের গুড়ের দোকানে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। আমিনুল চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁরা ক্ষিপ্ত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে কালাইয়া বাজারের দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন আমিনুল। ল্যাংড়া মুন্সির পোল এলাকায় পৌঁছালে ইয়াছিন, সোহানসহ কয়েকজন তাঁর পথরোধ করেন বলে অভিযোগ।
এ সময় লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ ও হাতুড়ি দিয়ে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন আমিনুল। একপর্যায়ে তাঁর কাছে থাকা ৩০ হাজার টাকা নিয়ে অভিযুক্তরা চলে যান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা আহত আমিনুলকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
যা বলছেন অভিযোগকারী
আহত আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমি কালাইয়া বাজারে গুড়ের ব্যবসা করি। এর আগে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না, এখনও নেই। আমার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা না দেওয়ায় তারা আমাকে মারধর করে এবং আমার সঙ্গে থাকা ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।”
অভিযোগ অস্বীকার ছাত্রদল নেতার
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাউফল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. ইয়াছিন হাওলাদার।
তিনি বলেন, “আমিনুল ইসলামকে আমি মারিনি এবং ৩০ হাজার টাকাও নেইনি। ছাত্র আন্দোলনের সময় যারা পোলাপানের গায়ে হাত দিয়েছিল, তাদের পেয়েছি, আওয়ামী লীগকে পিটাইছি।”
তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পুলিশের
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মতামত