পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খাপড়াভাঙ্গা নদীর তীরের সরকারি জায়গা দখল করে নির্মাণাধীন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে আলীপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দরসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নির্মাণাধীন অবকাঠামোটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, খাপড়াভাঙ্গা নদীর তীরবর্তী সরকারি জায়গায় অনুমোদন ছাড়াই স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পেয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেকের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে নির্মাণাধীন স্থাপনাটি ভেঙে সরিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযানের বিষয়ে কামাল বেপারী বলেন, নদীর ভাঙন থেকে তাঁদের অফিসঘর রক্ষার উদ্দেশ্যে সেখানে গাইডওয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। স্থাপনা নির্মাণের জন্য সরকারি জায়গা দখলের কোনো উদ্দেশ্য ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে উপজেলা প্রশাসন তাঁর এ দাবি গ্রহণ করেনি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক বলেন, ভূমি অপরাধ প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইন, ২০২৩ অনুযায়ী সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আলীপুর-মহিপুর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য অবতরণকেন্দ্র। এ অঞ্চলের মাছের ব্যবসা, জেলেদের জীবন-জীবিকা এবং ট্রলার চলাচলের সঙ্গে খাপড়াভাঙ্গা নদীর নৌপথ সরাসরি যুক্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর তীর দখল করে একের পর এক স্থাপনা নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, খাপড়াভাঙ্গা নদীর পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন নদ-নদীর তীরেও দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। এতে নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নদীর তীরবর্তী সরকারি জমি বেদখল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযানের পর স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, শুধু তাৎক্ষণিক উচ্ছেদ নয়, নদীর সরকারি সীমানা নির্ধারণ করে নিয়মিত নজরদারি চালানো প্রয়োজন। এতে ভবিষ্যতে নতুন করে দখল ও স্থাপনা নির্মাণ ঠেকানোর পাশাপাশি খাপড়াভাঙ্গা নদীর নাব্যতা ও নৌপথের স্বাভাবিকতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
মতামত