পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া বাজার এলাকায় একটি ব্রিজের এপ্রোচ সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় নির্মাণকাজের মান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে গজালিয়া বাজারে ব্রিজের সংযোগ সড়ক নির্মাণ শুরু হয়। কাজ শুরুর পর থেকেই ব্যবহৃত ইটের মান নিয়ে আপত্তি জানান স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এ অংশে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হলে নির্মাণকাজের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হবে।
এদিকে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগে কাজ বন্ধ করতে বাধা দেন গণঅধিকার পরিষদের গজালিয়া ইউনিয়ন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আল মামুন। অন্যদিকে কবির হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংগঠনের নেতা পরিচয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, কবির হোসেন প্রথমে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারণে কাজ বন্ধ করেছিলেন। পরে তার নির্দেশেই আবার একই ধরনের ইট দিয়ে কাজ শুরু হয়। এরপর হাসান আল মামুন এসে পুনরায় কাজে বাধা দেন। এ নিয়ে নির্মাণকাজ নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন অবস্থান প্রকাশ্যে আসে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার কারণেই কেউ কাজ বন্ধ এবং কেউ কাজ চালুর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ডিপ-২ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রায় ৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫১ মিটার ব্রিজ ও এপ্রোচ সড়ক নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। পটুয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মহিউদ্দিন আহমেদ কাজটি বাস্তবায়ন করছে। ব্রিজ নির্মাণ শেষ হলেও দীর্ঘদিন এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এলাকাটি যান ও মানুষের চলাচলের জন্য সমস্যাজনক ছিল। সম্প্রতি সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।
গণঅধিকার পরিষদের গজালিয়া ইউনিয়ন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আল মামুন বলেন, স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকেই নিম্নমানের ইট ব্যবহারের প্রতিবাদ করা হয়েছে। তার দাবি, রাস্তার কাজে কোনোভাবেই নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা উচিত নয়। কবির হোসেনের সংগঠনে কোনো পদ নেই বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মামুন।
অভিযোগের বিষয়ে কবির হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নাদিম বলেন, নির্মাণকাজে কিছু নিম্নমানের ইট রয়েছে। সেগুলো ভালো ইটের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। তার দাবি, মোট ইটের প্রায় ৩০ শতাংশ নিম্নমানের হতে পারে। কাজ বন্ধের বিষয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি কাজ বন্ধের জন্য তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী রিপন দাস বলেন, নিম্নমানের ইট ব্যবহারের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। এ কারণে ইতোমধ্যে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারের ম্যানেজার নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সড়ক থেকে নিম্নমানের ইট সরিয়ে নিতে ঠিকাদারকে বাধ্য করা হবে।
গলাচিপা উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্প দ্রুত পরিদর্শন করে নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা করা হোক। নিম্নমানের ইট ব্যবহার হয়ে থাকলে তা অপসারণ করে প্রকল্পের নির্ধারিত কারিগরি মান বজায় রেখে কাজ শেষ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মতামত