পটুয়াখালীর বাউফলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও যথাযথ সম্মানের মধ্য দিয়ে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোকাম্মেল হক শরীফকে। রাষ্ট্রীয় সম্মাননা, জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদনের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।
রবিবার (১ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের কালাইয়া কোটপাড় গ্রামে তাঁর মরদেহে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইয়েদ মাহমুদ বুলবুল।
মরহুম মোকাম্মেল হক শরীফ কালাইয়া ইউনিয়নের কালাইয়া কোটপাড় গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বাউফল প্রেসক্লাবের সদস্য মো. তৌহিদ হোসেন উজ্জ্বলের বাবা। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ৯টা ১৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান শেষে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়। জীবনের শেষ বিদায়ে তাঁকে সম্মান জানাতে স্বজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোকাম্মেল হক শরীফ মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে অবদান রেখেছেন। তাঁর মতো মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার বিনিময়েই অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। দেশের প্রতি ভালোবাসা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং দেশপ্রেমের আদর্শ তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
ব্যক্তিজীবনে তিনি সৎ, বিনয়ী, সদালাপী ও মানবিক গুণাবলির অধিকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মানুষের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক, সৌজন্যবোধ ও ভালো ব্যবহারের কারণে এলাকায় তিনি শ্রদ্ধা ও সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হারালেন এলাকাবাসী। পাশাপাশি পরিবার হারাল তাদের প্রিয় অভিভাবককে।
তাঁর মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী তাঁর মুক্তিযুদ্ধের অবদান, দেশপ্রেম ও মানবিক আদর্শ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন।
শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁকে ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকাহত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দান করুন। আমিন।
মতামত