পটুয়াখালীর দশমিনায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সেইন্ট-বাংলাদেশ প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং মৌলিক সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে সভায়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় দশমিনা উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সেইন্ট-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর কবির। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা।
সভায় সেইন্ট-বাংলাদেশ প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার নেহার আজমঠ মুহি, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম শাহিন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জেসমিন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিটলারুজ্জামান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম এবং দশমিনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. বেল্লাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সংবাদকর্মী, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কর্মরত সেইন্ট-বাংলাদেশের কর্মীরা সভায় অংশ নেন।
প্রকল্পের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা
সভায় স্বাগত বক্তব্যে সেইন্ট-বাংলাদেশ প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রজেক্ট ম্যানেজার নেহার আজমঠ মুহি। তিনি জানান, দশমিনা উপজেলার রণগোপালদী ও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা এবং পানি ও স্যানিটেশন খাতে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে উপজেলার অবহেলিত জনগোষ্ঠীর কাছে এসব মৌলিক সেবা পৌঁছে দিতে আরও ব্যাপক পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বৃদ্ধি, চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তিতে সহায়তা এবং নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনব্যবস্থার উন্নয়নে প্রকল্পের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রকল্পের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা সম্প্রসারণের জন্য তিনি উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
চরাঞ্চলের মানুষের সেবায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, দশমিনা একটি উপকূলীয় উপজেলা। এ উপজেলায় কয়েকটি চরাঞ্চল রয়েছে, যেখানে বসবাসরত সাধারণ মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা এবং পানি ও স্যানিটেশনসেবার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি এসব এলাকার মানুষের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, উন্নয়ন সংস্থা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বাস্তব চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলে উন্নয়ন উদ্যোগ আরও কার্যকর হবে।
উপকূলীয় ও চরাঞ্চলের মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দিতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি বলেও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে প্রত্যাশা
দশমিনার বিভিন্ন ইউনিয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনসেবা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম ও চরাঞ্চলে বসবাসরত মানুষের কাছে এসব সেবা পৌঁছে দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ অবস্থায় সেইন্ট-বাংলাদেশের চলমান কার্যক্রমের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনগোষ্ঠী উপকৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সভায় প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের অবহিত করা এবং পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে উপজেলার অবহেলিত জনগোষ্ঠীর মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
মতামত