পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার রানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে রানীপুর খালের ওপর দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ভেঙে পড়ে থাকা সেতুটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এতে উপজেলার প্রত্যন্ত এই এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রানীপুর খালের ওপর অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি প্রায় এক দশক ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়েছিল। ফলে এলাকার বাসিন্দাদের চলাচলে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ ও সাধারণ পথচারীদের যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হতো। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা। বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও এত দিন সমস্যার স্থায়ী সমাধান পাননি তাঁরা।
এ অবস্থায় ভাঙা সেতুটির দুরবস্থা তুলে ধরে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সেতুটির ভগ্নদশার ছবি ছড়িয়ে পড়ে। সংবাদ প্রকাশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। একপর্যায়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উদ্যোগে সেতুটি পুনর্নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়।
জানা গেছে, সংবাদ প্রকাশের পর দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে রানীপুর খালের ওপর একটি আয়রন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস ধরে নির্মাণকাজ চলার পর সম্প্রতি কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রানীপুর খালের ওপর সেতুটি ভেঙে পড়ার পর থেকে তাঁদের চলাচলে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে সেতুটি সংস্কারের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। সংবাদ প্রকাশের পর একটি বেসরকারি সংস্থাও সেতুটির কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে। অবশেষে কাজ শেষ হওয়ায় এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।
তাঁরা আরও জানান, সেতুটি চালু হওয়ায় এলাকার মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ পাবেন। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা সেতুর কারণে যে যোগাযোগসংকট তৈরি হয়েছিল, নতুন সেতুটি চালুর মধ্য দিয়ে তা অনেকটাই দূর হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এম এ জলিলুর তালুকদার বলেন, “রানীপুর খালের ওপর গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি প্রায় ১০ বছর ধরে ভেঙে পড়েছিল। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাঙা সেতুর খবর দেখতে পাই। এরপর থেকে ইউপি চেয়ারম্যানের প্রচেষ্টায় সেতুটির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।”
দীর্ঘ এক দশক ধরে ভেঙে পড়ে থাকা সেতুটি সংস্কারের মধ্য দিয়ে রানীপুর এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ ও কাজ সম্পন্ন করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে এলাকার অন্যান্য যোগাযোগ সমস্যারও দ্রুত সমাধান হবে—এমন প্রত্যাশা তাঁদের।
মতামত