কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতকরণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমান মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে পটুয়াখালীর গলাচিপায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১২টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘শিশু দিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কন্যাশিশু শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুজর মো. ইজাজুল হক।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সোহরাব হোসেন মিয়া, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. আলতাফ হোসেন খান, কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইখতিয়ার হোসেন কবির, গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান এবং জেলা যুব অধিকার পরিষদের সহসভাপতি মোহাম্মদ মহিবুল এনিম।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, আজকের কন্যাশিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের যথাযথ শিক্ষা, নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সমাজের সবার দায়িত্ব। কন্যাশিশুর বিকাশের জন্য পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
সভায় বক্তারা বলেন, কন্যাশিশুরা পরিবার ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের মেধা, যোগ্যতা ও সম্ভাবনার বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তারা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। এ জন্য কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য দূর করা, শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং তাদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, বাল্যবিবাহ কন্যাশিশুর শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশের পথে বড় বাধা। এ সমস্যা প্রতিরোধে অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি কন্যাশিশুদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলা এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও জোর দেন তাঁরা।
জাতীয় কন্যাশিশু দিবসের এ আয়োজনের মাধ্যমে কন্যাশিশুর অধিকার, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির বার্তা তুলে ধরা হয়। একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে কন্যাশিশুর সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা শেষ হয়।
মতামত