বরগুনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পৃথক বিশেষ অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে ফাঁদে ফেলার অভিযোগে হানিট্র্যাপ চক্রের দুই সদস্যকে আটক করে তাঁদের কাছ থেকে এক ভুক্তভোগীর খোয়া যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত মিশুক, একটি মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বরগুনা জেলা পুলিশ মিডিয়া সেলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম-সেবার সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার বিশেষ দল এসব অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মুকিত হাসান খাঁন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খন্দকার আশফাকুজ্জামান, বিপিএম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইশতিয়াক আহমেদ, পিপিএম।
পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে বরগুনা সদর থানার গৌরিচন্না ইউনিয়নের পশ্চিম ধূপতি এলাকায় অভিযান চালায় ডিবির একটি দল। এসআই (নিরস্ত্র) মোল্লা মো. জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে ২১টি ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির নগদ ৬৪০ টাকা, মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত মিশুক এবং দুটি বাটন মোবাইল ফোনসহ স্বপন (২৮) ও তারেক (২৬) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একই দিন রাত ৮টা ৩০ মিনিটে সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের জাকিরতবক এলাকায় ‘কাওসার স্টোর’-এর সামনে পাকা সড়কে চেকপোস্ট পরিচালনা করে ডিবির আরেকটি দল। এসআই (নিরস্ত্র) মো. মঞ্জুরুল হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে রুবেল সিকদার (৩৪) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ১ দশমিক ৯ কেজি গাঁজা, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা, ৯টি ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি বাজাজ প্লাটিনা মোটরসাইকেল, দুটি মোবাইল ফোন ও একটি মানিব্যাগ উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ছাড়া জাকিরতবক এলাকায় ডিবির পৃথক চেকপোস্টে গাঁজাসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে জেলা পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত বিচারের জন্য আদালতে পাঠানোর কথা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বরগুনা সদর থানা এলাকায় এসআই (নিরস্ত্র) মো. গোলাম হাফেজের নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে হানিট্র্যাপ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, তাঁদের কাছ থেকে এক ভুক্তভোগীর খোয়া যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি হানিট্র্যাপের কাজে ব্যবহারের অভিযোগে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় বরগুনা থানায় ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ২০ নম্বর মামলা করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ১০৯, ৩৮৪, ৩৮৫ ও ৫০৬ ধারার উল্লেখ রয়েছে।
বরগুনা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলছে। মাদক কেনাবেচা, পরিবহন, প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো অপরাধ প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মাদক ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের অপরাধ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে নিকটস্থ থানায় জানাতে অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বরগুনা জেলা পুলিশ।
মতামত